অধিক সোশ্যল মিডিয়া ব্যবহারে দীর্ঘ সময়ের জন্য দেখা দিতে পারে হতাশা। ছবি: সংগৃহীত

সারা বিশ্বেই এই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত। এক সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, এ মাধ্যম ব্যবহারে অল্প বয়সী পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৫০ ভাগ বেশি বিষণ্ণতার উপসর্গ দেখা যায় একই বয়সী নারীদের।

যদিও সোশ্যাল মিডিয়া কিশোর বয়সী নারী-পুরুষদের নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে এবং বন্ধুদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে একটি সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। যদিও বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করছে, খুব বেশি ফেসবুকিং, স্ন্যাপচ্যাটিং বা ইনস্টাগ্রামে সময় কাটানো বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে।

লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্তৃক প্রকাশিত জার্নাল ‘ই ক্লিনিক্যাল মেডিসিন’ থেকে জানা যায়, ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মাঝে বিষণ্নতার যে লক্ষণগুলো দেখা যায়, এরসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহারের গভীর সংযোগ রয়েছে। কিশোরী বয়সী পুরুষদের চেয়ে নারীদের মাঝেই এ লক্ষণগুলো বেশি পরিলক্ষিত। নারীরাই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ইনসোমনিয়া এবং সাইবার হ্যারাজমেন্টের শিকার হচ্ছেন।

এ জার্নালে উল্লেখিত গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, অল্প বয়সীদের মধ্যে যারা দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার বেশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটান, তাদের মধ্যে ৫০ ভাগ নারী এবং ৩৫ ভাগ পুরুষই বিষণ্নতায় ভোগেন। এ গবেষণার লেখক ইয়্যুভনি কেলি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এ পার্থক্যটা খুবই ভীতিকর। আমরা পার্থক্যের এ তারতম্য দেখে প্রথমে খুবই ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দ্বারা অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

এই গবেষণায় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং বিষণ্নতার লক্ষণগুলির মধ্যে একটি সম্পর্ক দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে অস্বস্তি, অস্থিরতা বা একাকীত্বের অনুভূতি অন্তর্ভুক্ত। গবেষণায় ঘুমের স্বল্পতা এবং সাইবারক্রাইমের মতো অন্যান্য বিষয়গুলিও বর্ণিত হয়েছে।

সুত্র : ডেকান ক্রনিকাল