ভারতের ৬৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকায় সেরা বাংলা সিনেমা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের জয়া আহসান অভিনীত সৃজিত মুখার্জির চলচ্চিত্র ‘এক যে ছিল রাজা’। শুক্রবার (৯ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় এই তালিকা।

এই বিষয় নিয়ে দুই বাংলার অন্যতম অভিনেত্রী জয়া আহসান দারুণ উচ্ছ্বসিত।

আজ (৯ আগস্ট) ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণার পর জয়া আহসান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘‘দুটি কারণে এই খবরটি আমার কাছে বিরাট আনন্দের বিষয়। প্রথম কারণটি হলো, ২০১৭ সালে এই পুরস্কারটি পেয়েছিল কৌশিক গাঙ্গুলি পরিচালিত ‘বিসর্জন’। আমি সে ছবির অন্যতম মুখ্য চরিত্রে ছিলাম। এ বছরের পুরস্কৃত ছবি ‘এক যে ছিল রাজা’ ছবিতেও আমি অভিনয় করেছি।’’

দ্বিতীয় কারণটি বললেন এভাবে, ‘‘আমার দ্বিতীয় আনন্দের কারণ হলো, ‘এক যে ছিল রাজা’ ছবির প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের ভাওয়াল অঞ্চলকে ঘিরে। ছবিটির গবেষক দলের অংশ হিসেবে ভাওয়ালের স্থানীয় বাংলা উচ্চারণের ভঙ্গিমা নিয়ে আসার কাজটিতে আমি যুক্ত ছিলাম সরাসরি। কাকতালীয়ভাবে দুটো ছবির প্রেক্ষাপটই বাংলাদেশ। এটি আমার আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘এক যে ছিল রাজা ছবি’র প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ এবং ছবির পুরো টিমকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’’

‘এক যে ছিল রাজা’তে জয়া আহসান ও যীশু সেনগুপ্তপার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রন্থ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ‘এক যে ছিল রাজা’র চিত্রনাট্য। এতে রয়েছে ভাওয়াল সন্ন্যাসীর জীবনের ছায়া। বিংশ শতকের প্রথম ভাগে করা তার মামলা আজও আলোচিত। অবিভক্ত ভারতবর্ষের বাংলা প্রদেশের ভাওয়াল এস্টেটের (বর্তমানে বাংলাদেশের গাজীপুর জেলায় অবস্থিত) কর্তৃত্ব নিয়ে এই মামলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল বাদীর পরিচয়। বাদী নিজেকে ভাওয়ালের রাজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণ রায় হিসেবে দাবি করেছিলেন। এক দশক আগে যার মৃত্যু হয়েছিল বলে সবাই জানতো।

জয়া আহসান আর যীশু সেনগুপ্ত ছাড়াও এ ছবিতে অভিনয় করেছেন অপর্ণা সেন, রুদ্রনীল ঘোষ, অঞ্জন দত্ত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও তনুশ্রী চক্রবর্তী।