মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীদের পোস্ট নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় একটি মেয়ে রাস্তায় হাফপ্যান্ট পরে হেঁটে গেলে তা সমস্যা না। তবে আমেরিকা ও বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড এক না। বাংলাদেশে এমন অবস্থা সম্ভব না। তাই আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ডে না, বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের পোস্ট এখানকার স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

শনিবার (২৯ জুন) রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তরের একটি অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এরআগে দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সরকার এখন যেকোনও ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। সেপ্টেম্বরের পর থেকে ফেসবুক, ইউটিউবে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা অর্জন করবো।’

এ বিষয়ের ওপরই একাত্তর জার্নালে আলোচনা হয়। এসময় কিসের ভিত্তিতে ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা জানতে চাইলে মন্ত্রী বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ডে ফেসবুক পোস্ট নিয়ন্ত্রণের কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনায় আমরা বস্তুতপক্ষে অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করেছি। যেমন: ফেসবুক ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় গুজব ছড়ানোর ঘটনা আমরা ঠেকাতে পারিনি। এরপর ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেশ কয়েকদফা কথা বলি। তারা ল অব দ্য ল্যান্ড মেনে চলবে বলে জানান। অর্থাৎ আমাদের দেশের জন্য যে আইন তার প্রতি তারা সম্মান জানাবে। এরপর আমি ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ অন্যান্য আইনের কপি তাদের কাছে দিয়েছি। আমরা তাদের বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের কথা বলেছি। বাংলা, রোমান ও ইংরেজি অক্ষর ব্যবহার করে লেখা পোস্ট নিয়ন্ত্রণে তাদের সহায়তা চেয়েছি।’

এসময় বিভিন্ন মিথ্যা বিষয় ভাইরাল হয়ে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে। সে সব ভাইরাল পোস্ট কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের হাতে ভাইরাল ও গুজব ছড়ানো বিষয়ে সক্ষমতা থাকা দরকার। বিষয়টি আমরা অনুধাবন করেছি। এর জন্য কাজ চলছে। এখন ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম, ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। সেপ্টেম্বরের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আমরা গুজব বন্ধে সক্ষমতা পাবো।’

এসময় চীনে ফেসবুক নিয়ন্ত্রণের উদাহারণ টেনে আলোচকরা জানতে চান বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে কিনা, জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। মতপ্রকাশে বাধাদান সংবিধান সমর্থন করে না। সবার কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সে বিষয়ে অবশ্যই লক্ষ্য রাখা হবে।

ফারজানা রূপার উপস্থাপনায় একাত্তর জার্নালে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক স্বদেশ রায় ও মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা প্রধান রেজোয়ানুল হক রাজা।

আজকের পত্রিকা/এমইউ