চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ির ৫নং ওয়ার্ডের কাচারিপাহাড় এলাকায় কেউ মারা গেলে নদীর উপর লাশ ভাসিয়ে কবরস্থানে নিতে হয়। অভাব শুধুমাত্র একটি সেতুর।

এ অঞ্চলের কেউ মারা গেলে বার বার উঠে আসে এমন কঠিন অমানবিক বাস্তব চিত্র। বছরের পর বছর চলে গেলেও যার কোন সমাধান হয়নি।

শনিবার (১১ জুলাই) এলাকার বাসিন্দা
ফিরোজ আহমেদ চৌধুরী ছেলে শাহ আলম চৌধুরীর মৃত্যুর পর আবারও কাচারিপাহাড় এলাকার মানুষকে মুখোমুখি হতে হয়েছে এ অমানবিক নিষ্ঠুর পরিনতির।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের কাচারিপাহাড় এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম চৌধুরী গতকাল শুক্রবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন।

পিতা-মাতার কবরের পাশে দাফন করার জন্য তাদের ‌পারিবারিক জামে মসজিদের কবরস্থানে দাফন করার জন্য যান। শনিবার বাদে আসর পূর্ব পুইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই ব্যবসায়ীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু তাঁর বাড়ি আর জানাজার মাঠের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটিতে কোনো সেতু না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জানাজায় অংশ নিতে গ্রামবাসীকে বাঁশের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পার হয়। তবে লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাতের উপর ভার করে পানিতে ভাসিয়ে।

যা দেখে মানুষের বিবেগ আপ্লূত হয়। এছাড়াও বর্ষাকালজুড়েই এই পথ দিয়ে হাজারো মানুষকে যাতায়াত করতে হয় এভাবে ঝুঁকি নিয়ে।‌ সেতু না থাকায় বর্ষাকালীন সময়ে এলাকার ছোট্ট ছোট্ট কোমলমতী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

হৃদয়ের দরদমাখা অশ্রুসিক্ত নয়নে বাবার লাশ এভাবে পারাপার করার কথা বলতে গিয়ে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মায়মুনর রশিদ বলেন, ‘বছরের পর বছর আমাদেরকে এভাবে কষ্ট করে যেতে হচ্ছে। সেতুর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাঘুরি করেও কাজ হয়নি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য খাইনে আলম বলেন, ‘আমাকে এ বিষয় তারা কখনো কিছুই জানায়নি। আমাকে যদি কখনো বলতো তাহলে মাসিক মিটিংয়ে বলে তাদের জন্য একটা সেতুর ব্যবস্থা হয়তো করতে পারতাম বলে দাবি তার।’

এ ব্যাপারে পুঁইছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান গনি চৌধুরীকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

  • 273
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    273
    Shares