সু-প্রভাত ও জাবালে নূর বাস। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর নিহতের ঘটনায় রাজধানী ঢাকায় সু-প্রভাত ও জাবালে নূর পরিবহনের সব বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিআরটিএ।

২০ মার্চ বুধবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) শফিকুজ্জামান ভূঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, বুধবার থেকে রাজধানীতে ঢাকা মহানগরীর (রুট নং এ-১৩৮) উত্তরা রানীগঞ্জ থেকে সদরঘাটে চলাচলরত সু-প্রভাত প্রাইভেট লিমিটেডের সব বাস ও মিনিবাস এবং ঢাকা মহানগরীর (রুট নং এ-১৮৪) বসিলা থেকে আব্দুল্লাহপুরে চলাচলরত জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের সব বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সু-প্রভাত ও জাবালে নূরের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার বিকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে ৪ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ঘরে ফেরার ঘোষণা দেন তারা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিআরটিএ’র এই সিদ্ধান্ত এলো। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সু-প্রভাত ও জাবালে নূর পরিবহনের সব বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে উল্লেখ করা হয় ওই চিঠিতে।

১৯ মার্চ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭ টায় রাজধানীর প্রগতি সরণি এলাকায় সু-প্রভাত (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) বাসের চাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হন। যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের জেব্রা ক্রসিং পার হতে গিয়ে দ্রুত গতীতে আসা সু-প্রভাত বাসের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভারসিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি) এর শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী। এরপরেই প্রতিবাদে ফেটে পড়ে বিইউপি, নর্থ-সাউথসহ আরো কয়েকটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনার দিনই তারা নর্দা, বসুন্ধরার সামনের সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে।

ওই আন্দোলনে তারা ৮ টি দাবী উপস্থাপন করে। পরে মেয়র আতিকুল ইসলাম তাদের দাবী যুক্তিযুক্ত বলে ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সেই দাবি পূরণের আশ্বাসও দেন। ওই সময়ে তিনি সুপ্রভাত পরিবহণের রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

এর পরের দিন ২০ মার্চ বুধবার সকালে মেয়র আতিকুল ইসলাম নিহত আবরারের নামে বসুন্ধারার সামনে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্থর উদ্বোধন করেন। একই দিন সড়ক দূর্ঘটনা ও এ নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ এনে আন্দোলন চড়িয়ে পড়ে প্রগতী স্মরণী ছাড়াও রাজধানীর শাহবাগ, ধানমন্ডি ২৭, সাইন্সল্যাব মোড়, ফার্মগেট, পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার মোড়সহ আরো কয়েকটি এলাকায়।

পরে মেয়রসহ প্রশাসনের পরিবহণ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের জন্য ৭ দিনের সময় চেয়ে নেন। এমন আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধকৃত সড়কগুলো ছেড়ে দিয়ে যান বাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়।

এর আগে, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ঢাকা বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম (১৬) নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়ক দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন ঢাকার স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই সময়ে শিক্ষার্থীদের টানা কয়েকদিনের বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়েছিলো ঢাকা। তখনই জাবালে নূরের দুটি বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছিলো।

আজকের পত্রিকা/কেএফ