সুন্দরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

একুশে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস এলে শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, বধ্যভুমি, গণকবর পরিষ্কার, পরিচর্যা, সংস্কার, মেরামত ও সংরক্ষণের ধুম পড়ে যায়। এরপর আর মনে রাখে না কেউ ওইসব স্থাপনার। সংরক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে অনেক স্থাপনা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে দিনের পর দিন। এছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেশিভাগ প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসমূহে শহীদ মিনার নেই বললেই চলে।

উপজেলায় ২৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮৭টি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৪৫টি মাদ্রাসা ও ১৫টি কলেজ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগের মধ্যে শহীদ মিনার নেই। যে কারণে শিক্ষার্থীরা ভাষা সৈনিকদের ইতিহাস এবং মর্ম জানে না। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষাকে ছিনিয়ে আনার জন্য বুকের তাজা রক্ত দিয়ে যারা যুদ্ধ করেছেন তাদের স্মরণে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের স্মরণে নির্মাণ করা হয় বধ্যভূমি ও গণকবর। দিনের পর দিন পরবর্তী প্রজন্মকে ইতিহাসের শিক্ষা দিতে ওই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু আজও শত ভাগ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়নি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার ইমদাদুল হক বাবলু জানান, শুধু মাত্র দিবস জাতীয় দিবস আসলে শহীদ মিনার, গণকবর, বধ্যভূমি ও স্মৃতিসৌধ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, মেরামত ও সংস্কার করা হয়। কেন ইতিহাসের ওই সবকালের সাক্ষীকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে না সে আমার জানা নেই। এলাকার অভিজ্ঞ মহলের দাবি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন। উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি তিস্তা নদীর সন্নিকটে অবস্থিত। যে কোনো মুহূর্তে বধ্যভূমি, গণকবরসহ শহীদ মিনারটি নদীগর্ভে ভেঙে যেতে পারে। নেই কোনো বাউন্ডারি ওয়াল। অবহেলা ও অযত্নে দিন দিন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহমুদ হোসেন মণ্ডল জানান, শত ভাগ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভাব হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, আগামী ৫ বছরের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেয়া হবে।

মোঃ হযরত বেল্লাল/প্রতিনিধি/সুন্দরগঞ্জ/গাইবান্ধা