সুনামগঞ্জ শহরতলীর মাইজবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের পর্নো ভিডিও দেখানো ও যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে সুনামগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৩ নং মামলাটি দায়ের করেন হয়রানির শিকার হওয়া এক ছাত্রীর বাবা। এদিকে বুধবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পালের আদালতে হাজির করা হলে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয় আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ উপ-পরিদর্শক অজয় চন্দ্র রায় জানান, শহরতলির মাইবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির চার ছাত্রীকে বিভিন্ন সময়ে গাইড বই দেয়ার নামে বিদ্যালয়ের ছাদে নিয়ে পর্নো ভিডিও দেখতে বাধ্য করা, নানা অজুহাতে শরীরে হাত দেয়া ও যৌনপীড়নের অভিযোগে এক অভিভাবক মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরো জানান, অভিভাবক কর্তৃক থানায় মামলা দায়েরের পর নিপিড়নের শিকার চার শিক্ষার্থী সুনামগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইসরাত জাহানের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

পরে আদালত আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এদিকে, ছাত্রীদের যৌন নিপিড়ন করার অভিযোগে শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেফতার হওয়ার পর বুধবার তাকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ডিডি একেএম শাফায়েত আলম শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনকে এ সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ প্রদান করেন।

সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিভাগীয় উপপরিচালক একেএম সাফায়েত আলম বলেন, প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে। উল্লেখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পর্ন ছবি দেখানো ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজবাড়ি এলাকা থেকে ঐ প্রধান শিক্ষক কে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

আটককৃত শিক্ষক নেতা গিয়াস উদ্দিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর পুত্র ও সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার বিলপাড়স্থ উদয়ন ৫ নং বাসভবনের বর্তমান বাসিন্দা।

আল-হেলাল/সুনামগঞ্জ