গাঁথি পুঞ্জমালা
হৃদয়ের সমস্ত বেদনা ভরে।
কত! যে পথ গেছে পাড়ি
দিন-রাত আর নীল নবঘনে।
মনের সানাই বহুবার বেজেছে
ভোরের পাখির মত
ফুলে-ফলে মৌসুমে বিলিয়েছি কত সুখ
নির্বিকার বেদনা সয়েছি যত।

আবার বেদনাতেই আমার শান্তি
আমার বেদনা ভালো লাগে।
আর বেদনার নীল বদন
তা আরও মধুর হয়েছে
সুখের পথের ঢেউ ভুলে।
আমি সেই পথেরই যাত্রী।
আমি উড়িয়েছি সব সুখ
সাদা বকের পালক ছুঁয়ে।
শিঊলি ফুলের তাজা গন্ধে
রক্ত জবার নুয়ে পড়া ক্লান্ত দুপুরে।
আমি বিলিয়েছি সব সুরভী
মাধবী লতার মতন।
ক্লান্ত পথে চলতে চলতে জ্বলেছি বহুবার
নিভে যাওয়া তারার মত।

আচ্ছা সেই চাঁদ রাতের কথা কী তোর মনে আছে?
তুই উল্লুকের মত খিল খিল করে আছড়ে পড়েছিস কত!
মায়ের বাহানা আর লোকের বাহানায়
তুই কতবার যে আমার মসৃণ চিন্তায় মই দিয়েছিস।
আমি রেগেছি আর শুধু মনভার করেছি
একেবারেই অবুঝ শিশুর মত।

আচ্ছা! কুয়াশার সেই শীতের দিনের কথা
তুই কি এখনও ভাবিস?
একটু কাছাকাছি আসলেই হাত দুটো ধরতিস।
মায়ের বক বকানীর সব গল্পগুলো
গল গল করে উগ্রিয়ে দিতিস
আমার চোখে চেয়ে এক নিমিশে।
তুই হেয়ালি ছিলিস বড্ড বেশি
আমার হেয়ালিও কম ছিলনা।
তবুও কেমন যেন চুপ হয়ে যেতাম আমি
পথের পাড়ে এসে, বড্ড ক্লান্ত হয়ে দু’জনে।

সমস্ত পথের বাঁকে নিজের খেয়ালির ছলে
এক নিমিষেই হারিয়ে গেলি!
ধুর! কি এমন হয়েছিলো বলতো একবার দেখি।
সামান্য ব্যথায় এত কাছ থেকে এত দূরে গেলি!
তুই বড্ড লোভী ছিলি!
আমার সঙ্গ তুই ছাড়তেই চাসনি।
তবে তুই কেন চলে গেলি?

আমিও খুব লোভী ছিলাম
তোর আঙুল ছোঁয়ার লোভে।
আমি এখনও তোর সঙ্গ খুঁজি
দূর আকাশের চাঁদ দেখে,
তারার সাথে খেলে লুকোচুরি
আমার একলা থাকার বেশে।

একলা থেকে আমি তোকেই যে পায়
আমার সামনে, পেছনে আর চারপাশে।
তুই যে আমার শত সুখ
শত বেদনার বেশে।
তাই আমার বেদনায় ভালো।
আমার বেদনাতেই স্বস্তি,
আমার বেদনাতেই আস্বস্তি,
বেদনায় যে আমার সুখের সারথি।

-আসিফ ইকবাল আরিফ
সহকারী অধ্যাপক, জাককানইবি, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares