সুইডিশ কন্যা ইবাবা আকারলান্ড এবং হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্ট। ছবি : সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। আর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৮ জন।

ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ওই হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনার ১৭ মিনিটের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট হামলার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত দেখিয়েছেন। নৃশংসতা থাকায় ভিডিওটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিলেও এখনও অনেক ওয়েবসাইটে রয়ে গেছে সেটি।

হামলাকারীর নাম ব্রেন্টন টারান্ট, বয়স ২৮ বছর। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বংশদ্ভুত। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলা করার পূর্বে হামলাকারী ফেসবুকে তার হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে একটি মেনিফেস্টো লিখে পোস্ট করেন। আক্রমণকারী ব্রেন্টন টারান্ট তার এই মেনিফেস্টো শুরু করেন ইংরেজ কবি ডিলান থমাসের একটি কবিতা ‘ডু নট গো জেন্টল ইনটু দ্যাট গুড নাইট’ দিয়ে। কবিতাটির মধ্যে দিয়ে ব্রেন্টন তার ভেতরের রাগ এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

ম্যানিফেস্টোতে ব্রেন্টন টারান্ট তার হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে বলেন, ইউরোপের মাটি কখনো অন্যের মাটি হবে না। এদিকে ব্রেন্টন টারান্টের ব্যবহৃত অস্ত্রের গায়ে লেখা ছিলো ‘টু টেইক রিভেঞ্জ ফর ইবাবা আকারলান্ড’। এই প্রসঙ্গে হামলাকারী ম্যানিফেস্টোতে উল্লেখ করেন, তার হামলার পেছনে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে ইবাবা আকারলান্ড নামের ১২ বছর বয়সী সুইডিশ কন্যা যাকে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সুইডেনের স্টকহোমে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করে হয়েছিলো। ওই ঘটনায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। এই হত্যার পেছনে সরাসরি জড়িত ছিলো রাখমত আকিলভ নামে ৪০ বছর বয়সী এক মুসলিম। উজবেকিস্তান নাগরিক আকিলভ সুইডেনে মাইগ্রেশন এজেন্সিতে আশ্রয়প্রার্থীর দাবি করেছিলেন।

ব্রেন্টন ম্যানিফেস্টোতে এই ১২ বছরের সুইডিশ কন্যাকে তার হিংসাত্মক আক্রমণের অনুঘটক হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেন। এছাড়া টারান্ট তার ইশতেহারে আরও জানান, ইউরোপের মাটি থেকে অভিবাসন হার বা ইমিগ্রেশন রেট কমিয়ে আনার জন্য এমন ভয়াবহ হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

মূলত ধর্মের নামে মানুষ হত্যার এই প্রতিশোধপরায়ণতা চলমান থাকলে পৃথিবী মানুষশূন্য হয়ে পড়তে দেরি হবে না। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে এই হিংস্র ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্দান বলেন, এই ঘটনা নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে রয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, ক্রাইস্টচার্চের হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে ফিরেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তামিম, মুশফিকসহ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় এবং বাংলাদেশি সংবাদকর্মী ওই মসজিদেই নামাজ আদায় করার জন্য গিয়েছিলেন। তবে হামলার শুরুতেই তারা হোটেলে ফিরে যান।

উল্লেখ্য, হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া আহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি। হামলার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা শোক জানিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হামলার ঘটনায় শোক জানিয়েছেন।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/আ.স্ব/