সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। ফাইল ছবি

আজ ১১ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি স্থানান্তর। চলবে ১২ জানুয়ারি শনিবার পর্যন্ত। আর এ জন্য তিনদিন অর্থাৎ ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রাখার নোটিশ জারি করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

১৭৮৯ সালে নগরীর ধোপাদীঘির পারে ২৪.৬৭ একর ভূমির উপর ১ লাখ রুপি ব্যয়ে গড়ে উঠে এই কারাগার। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে এবং উদ্বোধনের ৩ মাস পর আজ থেকে নতুন ঠিকানায় যাচ্ছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা।

শুক্রবার মহিলা হাজতিদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে বাদাঘাটে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল পৌনে সাতটার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নবনির্মিত কারাগারে নিয়ে আসা হয় মহিলা হাজতিদের। এরপর কয়েদিদের নিয়ে আসা হয়। পর্যায়ক্রমে হাজতিদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

আর এ উপলক্ষে সিলেট নতুন কারাগার, পুরনো কারাগার এবং সিলেট শহরের মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

জানা যায়, বন্দি আধিক্য ও গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৯৭ সালে সিলেট কারাগার উন্নীত হয় কেন্দ্রীয় কারাগারে। সোয়া দুই শ’ বছর পর সেই কারাগারকে সরানোর পরিকল্পনা করা হয় এবং নিয়ে যাওয়া হয় শহরতলিতে। পুরনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়া সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি কয়েদি থাকার কারণে ২০১০ সালে একনেকে ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ ও স্থানান্তর প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল। এরই পরিপেক্ষিতে ২০১১ সালের ১১ই আগস্ট তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জালালাবাদ থানাধীন বাদাঘাটে কারাগারের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এক বছর পর ২০১২ সালের ১২ই জুলাই শুরু হয় নির্মাণ কাজ।

১৯৯৭ সালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপান্তরের পর এর ধারণক্ষমতা দাঁড়ায় ১ হাজার ২১০ জনে। বর্তমানে এই জেলে বন্দি আছেন ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।

গত বছরের ১ নভেম্বর দুই হাজার বন্দির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারটির উদ্বোধন হয় । ওইদিন সকাল ১০টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কারাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবশ্য নতুন কারাগার হলেও পুরনো কারাগারটিও ব্যবহার করা হবে বলেও জানান জেলা সুপার মো. আব্দুল জলিল।

২০১০ সালে সিলেটের নতুন কারাগার নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির সভায় (একনেক) পাস হয়। ২০১১ সালের আগস্টে সিলেট নগর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সিলেট সদর উপজেলার বাদঘাটে ৩০ একর জমির উপর আধুনিক সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। নতুন কারাগার গড়ে উঠে অভ্যন্তরে ১৬ একর ও বাইরে ১৪ একর জমিতে।

কারাগার সূ্ত্র জানিয়েছে, ১৯৭ কোটি টাকা প্রক্কলন ব্যয় ধরে কারাগার নির্মাণের কাজ শুরু হলেও কাজ শেষ করতে ব্যয় দাঁড়ায় ২৭০ কোটি টাকায়। যেখানে স্থাপন করা হয়েছে ৫৯টি ভবন। কারাগারে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ১শ’ শয্যার পাঁচতলাবিশিষ্ট চারটি হাসপাতাল, স্কুল ও লাইব্রেরি ভবন ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মকর্তাদের জন্য একশ’ ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

নতুন কারাগারে পুরুষ বন্দিদের জন্য ৬তলাবিশিষ্ট ৪টি ভবন, নারী বন্দিদের জন্য রয়েছে দ্বিতলবিশিষ্ট দু’টি ও ৪তলা একটি ভবন। নতুন কারাগারে করা হয়েছে ৪টি হাসপাতাল। রান্নার কাজের জন্য একতলাবিশিষ্ট ভবন করা রয়েছে ৫টি। স্টোর রুম বা খাবার মজুত রাখার জন্য রয়েছে ৪টি ভবন।

কারাগারে দ্বিতলবিশিষ্ট রেস্ট হাউসও করা হয়েছে একটি। রয়েছে চারতলাবিশিষ্ট একটি ডে কেয়ার সেন্টার, মসজিদ, স্কুল ও লাইব্রেরি। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, ক্যান্টিন, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার কক্ষ এবং প্রশাসনিক কার্যালয় করা হয়েছে।

জেল সুপার আব্দুল জলিল জানান, কারাগারের অনুমোদিত ৪৫৫ জনবলের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৯৯ জন। বাকি পদগুলো শূন্য। এই জনবলের মাধ্যমে ৩ শিফটে দায়িত্ব পালন করেন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন কারাগার চালু হওয়ার পর দুই কারাগারে এই জনবল দিয়ে দায়িত্ব পালন করাতে হবে। আর নতুনটি চালু হওয়ার পর লোকবল আরো বাড়ানোর চাহিদা দেওয়া হবে।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান বলেন, কারাগারের প্রায় আড়াই হাজার বন্দি স্থানান্তর করা হবে। বন্দি স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এরইমধ্যে জেলা প্রশাসনে সভায় সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রথমবারের মতো পুরনো কারাগার থেকে বন্দি সরানো হচ্ছে।