ধর্ষণ। ছবি:সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানীনগরে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা মাসুক মিয়াকে (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ওসমানীনগর থানার পুলিশ।

এর আগে রোববার এ ঘটনায় কিশোরীটির চাচি বাদী হয়ে মাসুক মিয়ার বিরুদ্ধে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মাসুক মিয়া উপজেলার রাইগদারা নোওয়া গ্রামের মৃত সমছু মিয়ার পুত্র। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আল মামুন মাসুক মিয়াকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিতার শিকার কিশোরীর (১৩) মা প্রায় ৬ মাস পূর্বে ৪ মেয়ে রেখে মারা যান। এরপর পিতা মাসুক মিয়া একাধিক বিয়ে করলেও তার কোনো স্ত্রী ঘরে নেই। ভিকটিম মেয়েটি মাদরাসার বোর্ডিংয়ে থেকে লেখাপড়া করে। মাদরাসার ছুটিতে বাড়িতে গেলে ধর্ষক মাসুক মিয়া তার মেয়েকে একা পেয়ে একাধিকবার কুপ্রস্তাব দেন।

মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিলেও পিতার কুপ্রস্তাবে রাজি হয়নি সে। কিন্তু মাসুক মিয়া তার মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গত ১৫ আগস্ট জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ভিকটিম গত শুক্রবার (৩০ আগস্ট) বিষয়টি তার চাচী সুরেতুন বেগমকে (৬০) জানায়। চাচী বিষয়টি জেনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ করে রোববার থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

নির্যাতনের শিকার শিশুটি বলেছে, ‘আমার বাবা রমজান মাসের আগ থেকে জোর করে আমার সাথে খারাপ কাজ করছেন। ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি। শেষ পর্যন্ত ছোটবোনের টানে গত বৃহস্পতিবার বাড়ি এসে রাতে চাচীর ঘরে অবস্থান করে চাচীকে ঘটনাটি খুলে বলি।’

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আল মামুন গতকাল রোববার জানিয়েছিলেন, নির্যাতনের শিকার কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করা হয়েছে।