সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত

এসএসসি পরীক্ষায় সিলেটের এইডেড স্কুলের সাবকেন্দ্র কিশোরী মোহন স্কুলে ভুল প্রশ্নপত্রে গণিত পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় এসময় ছাত্রীদের হিজাব খুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষায় এমন ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শেষ হতে না হতেই ঐ কেন্দ্রের অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাংবাদিকদের তারা জানান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দিতে আমাদের ১৫ মিনিট লেট করা হয়। কিন্তু আমাদের অতিরিক্ত কোনো সময় না দিয়েই উত্তরপত্র আমাদের কাছ থেকে টেনে নেওয়া হয়। তাছাড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন তাদের ২০১৬ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাসের পরীক্ষার প্রশ্ন দিয়ে দশ মিনিটের ভেতরে সেটা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। এজন্য পরীক্ষা ১৫ মিনিট পরে নতুন করে শুরু করা হয়েছে।

এছাড়া ঐ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী এবং বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের আরেক শিক্ষার্থীসহ ৪ শিক্ষার্থীর তাদের হিজাব খুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাছাড়া স্কলার্সহোম স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থী তাদের টাই খুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকদের কাছে। (সকল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় নাম ও রোল নাম্বার গোপন রাখা হলো)।

তবে, কেন্দ্র সচিব ও এইডেড স্কুলের প্রধান শিক্ষক শমসের আলী সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। শুধুমাত্র বোর্ড নির্ধারিত একজন শিক্ষার্থীই ২০১৬ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। অন্য কেউ এমন প্রশ্ন পেয়েছে প্রমাণ করতে পারলে আমি ইস্তফা দেবো।

তাহলে নির্ধারিত সময় থেকে ১৫ মিনিট পরে পরীক্ষা শুরু করলেন কেনো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে আমাদের কাছে প্রশ্ন এসে পৌছায় ৯টা ৩৫ মিনিটে। তা সঠিকভাবে বন্ঠন করতে করতে একটু দেরী হয়ে যায়। ১০/১৫ মিনিট দেরীতে প্রশ্নপত্র বিতরণ করলেও আমরা অতিরিক্ত ১০ মিনিট দিয়েছি। ১০টা ১০মিনিটে প্রশ্ন সরবরাহ করে ১টা ১০ পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

কিশোরী মোহন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং কেন্দ্রের যুগ্ম সচিব গৌরা ঘোষ বলেন, অস্বীকার করে হিজাব ও টাই খুলে নেওয়ার ব্যাপারে বলেন, মেয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে কানে কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা দিতে না পারে সেজন্য আমরা কান পর্যন্ত হিজাব খুলতে বলেছি। ছেলেদের টাই খুলে নেওয়ার ব্যাপারে বলেন, তদন্ত করে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।