সিঙ্গারায় টিকটিকি। ছবি: সংগৃহীত

একটি খাবার হোটেলে প্রবেশ করে বয়কে সিঙ্গারার অর্ডার দেন সুমন (ছদ্দনাম)। পছন্দের সিঙ্গারা মুখে নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে কামড় দিলেন তিনি। গরম সিঙ্গারায় অদ্ভুত স্বাদ। চোখ দিতেই আঁতকে উঠলেন যুবক। চিৎকার করে শুরু করলেন বমি। আশেপাশের ভোক্তারা কাছে এসে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি কিছু বলতে না পরলেও দেখালেন সিঙ্গারার অংশটুকু। উপস্থিত সবাই হতবাক। এ তো সিঙ্গারার ভিতর আস্ত একটা টিকটিকি দেখা যাচ্ছে।

হ্যাঁ, এমনই একটি ঘটনা গঠেছে শনিবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজারের বৈশাখী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচালনায় একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এতে ওই হোটেলকে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা অনাদায়ে হোটেল মালিক আব্দুল কাইয়ুমকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

জানা যায়, এ বিষয়ে সম্পর্কে হোটেলের বাবুর্চিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উল্টো ভোক্তা যুবককে হেনস্তা শুরু করেন হোটেলের বাবুর্চি ও কর্মচারীরা। উপস্থিত অন্যান্যদের সহযোগিতায় সেখান থেকে বের হয়ে সিঙ্গারার বাকি অংশ নিয়ে সরাসরি কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম মুসার কাছে যান প্রতিবাদী ওই যুবক। ঘটনার বর্ণনা জেনে তাৎক্ষণিক এসআই আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি টিমকে সেই হোটেল ঘেরাও করার নির্দেশ দেন ওসি। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল লাইছ সেখানে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল লাইছ জানান, নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি ও খাবারের মধ্যে টিকটিকি পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্রাহ্মণবাজারের বৈশাখী রেস্টুরেন্টেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে মালিককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরে জরিমানার টাকা পরিশোধ করে রেস্টুরেন্টের মালিক।