পিকআপ ভর্তি সাড়ে তিন হাজার কেজি সরকারি বই। ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের মৌতলা বাজারের বিশ্বজিৎ সরকারের ভাঙড়ির দোকান থেকে পিকআপ ভর্তি সাড়ে তিন হাজার কেজি সরকারি বই বিক্রির সময় আটক করে স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার রাতে বইগুলো আটক করা হয়। পরে স্থানীয়রা মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের নিকট হস্তান্তর করে বইগুলো।

এ সময় বই বিক্রেতা ভাঙড়ি ব্যবসায়ি শ্যামনগর উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের শামীম হোসেন জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেনের কাছ থেকে যথাযথ টাকা দিয়েই তিনি বইগুলো কিনেছেন। তার দেওয়া কাগজপত্র পরিষদে জমা দেন।

ঘটনাটি তাৎক্ষণিক মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানকে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা মতে তিনি সরকারি বইগুলো পরিষদের হেফাজতে রাখেন।

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন, ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদুজ্জামান ও সন্ধ্যায় জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। ঘটনার তদন্তে জেলা শিক্ষা অফিসার তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান জানান, ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত একটি পিকআপ ভর্তি বিপুল পরিমান সরকারি বই ব্যবসায়ি শামীম হোসেন মৌতলা বাজারের বিশ্বজিতের ভাঙড়ির দোকানে কেজিতে বিক্রির জন্য এনেছিলেন। পরে স্থানীয়রা আটক করে তাকে খবর দেয়। তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

তিনি আরও জানান, তাদের নির্দেশনা অনুযায়ি আনুমানিক ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের তিন হাজার ৪০০ কেজি বই পরিষদের একটি কক্ষে রেখে তালাবন্ধ করে রাখা হয়। বই বিক্রেতা শামীম হোসেন জানায় শ্যামনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন ওই বই বিক্রি করেছেন। বইগুলো ২০১৪-২০১৯ সালের মাধ্যমিক স্তরের সরকারি সকল পর্যায়ের।ঘটনার বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ২০১৫ সালের অব্যবহৃত ও ব্যবহৃত মাধ্যমিক স্তরের সকল প্রকার সরকারি বই বিক্রির জন্য ১০ জুন একটি রেজুলেশনে সাক্ষর করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যেসব কাগজপত্র বই বিক্রির সময় ক্রেতা শামীমকে দিয়েছেন তাতে যে সাক্ষর ও সিল দেখানো হয়েছে সেটি তার নয়। এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে।

তিনি বলেন, এছাড়া ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের বই বিক্রির কোন অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শ্যামনগরে যে সরকারি কর্মকর্তার হেফাজতে ওই বই রাখা ছিল তার সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।বই বিক্রির বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, কীভাবে রেজুলেশনবিহীন বইগুলো বিক্রি হচ্ছিল আমার জানা নেই। তবে এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, রেজুলেশন করে বই গুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভুলক্রমে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের বইগুলোও চলে গেছে।

তবে বই বিক্রেতা শামীম হোসেন বলেন, আমি যথাযথ টাকা দিয়েই কেজি দরে তার কাছ থেকে বইগুলো ক্রয় করেছি। সেসব কাগজপত্রও আমি জমা দিয়েছি। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাধ্যমিক স্তরের বই অবৈধভাবে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে তিন সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের পত্রিকা/বৈশাখী,সাতক্ষীরা/রাফাত