এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

বজ্রপাত। ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, পাবনা ও চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এর মাঝে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বাবা-ছেলে ও নেত্রকোনার কলমকান্দায় এক যুবক, ময়মনসিংহের ফুলপুরে ২ কৃষক, পাবনার বেড়ায় বাবা-ছেলেসহ চারজন এবং চুয়াডাঙ্গায় তিন কৃষক বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর সূত্রে জানা গেছে এ সব মৃত্যুর খবর।

সুনামগঞ্জ : ১৩ জুলাই শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মৃত মিরাজ আলীর ছেলে হারিদুল (৪৫) ও তার ছেলে তারা মিয়া (১০)। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় গ্রামের পাশে পতিত জায়গায় গবাদি পশুকে (গরু) ঘাস খাওয়ানোর জন্য যাওয়ার পথে বজ্রপাতে এনামুল হক (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

সকালে কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সন্ন্যাসীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এনামুল হক সন্যাসী পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

ময়মনসিংহ : শনিবার দুপুরে জেলার ফুলপুর উপজেলার পয়ারী গ্রামের ওয়াহেদ আলীর পুত্র কৃষক জামাল উদ্দিন (৪০) আমন ধানের চারা রোপনের জন্য মাঠে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে মারা যান। একই সময় বওলা ইউনিয়নের রামসোনা গ্রামের আব্দুল মজিদের পুত্র সোহাগ মিয়া (২৩) মাঠে হাসেঁর খাবার দেয়ারকালে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মারা যান।

পাবনা : পাবনার বেড়ায় বজ্রপাতে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৩ জুলাই শনিবার দুপুরে বেড়ায় চাকলা ইউনিয়নের পাচুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- পাচুড়িয়া গ্রামের মোতালেব সরদার (৫৫), তার দুই ছেলে ফরিদ (২২) ও শরীফ (১৮) এবং একই গ্রামের রহমত আলী (৫৫)।

জানা গেছে, নিহতরা সবাই ঘটনার সময় পাট ধোঁয়ায় কাজ করছিলেন। এ ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শেরপুর : শেরপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেছে চাষি কাশেম মিয়ার। গরু খুঁজতে বের হয়ে শ্রীবরদীর রূপারপাড় এলাকায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান তিনি।

চুয়াডাঙ্গা : জেলার আলমডাঙ্গায় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার বগাদির মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার বাড়ি মেহেরপুরের কলাইডাঙ্গা গ্রামে।

নিহতরা হলেন- কলাইডাঙ্গা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে আলামিন হোসেন, বরকত আলীর ছেলে হামিদুল ইসলাম ও মৃত গোলাম মিয়ার ছেলে হোদা মিয়া।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলে বগাদির মাঠে ট্রাকে কলা লোড করছিলেন তারা। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। এতে গুরুতর আহত হন তারা। তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সী আসাদুর রহমান বলেন, বজ্রপাতের কারণে ওই তিনজনের মুত্যু হয়েছে বলে শুনেছি।