জার্মান পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট ওল্ফগ্যাং শয়েবলে সামাজিক ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করতে নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে বার্লিনের বুন্ডেসটাগে অবস্থিত তাঁর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান। নভেম্বর ৬, ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত তাঁদের এই একান্ত বৈঠকে সামাজিক ব্যবসা ছাড়াও দারিদ্র, ক্ষুদ্রঋণ, বেকারত্ব ও তরুণ সমাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

স্পীকার শয়েবলে ১৯৭২ সাল থেকে বুন্ডেসটাগের সদস্য যিনি জার্মানীর ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম সময় পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে দেশের সেবা করে আসছেন। তিনি ২০১৭ সাল থেকে বুন্ডেসটাগের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে দুই জার্মানীর একত্রীকরণের মূল স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি চ্যান্সেলর কোহল ও চ্যান্সেলর মেরকেলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী। তিনি ইতোপূর্বে চ্যান্সেলর মেরকেলের সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন।

প্রফেসর ইউনূস ও স্পীকার শয়েবলের মধ্যকার এই বৈঠক এক ঘন্টারও বেশী স্থায়ী হয়। স্পীকার শয়েবলে ক্ষুদ্রঋণের একজন বিশিষ্ট সমর্থক। তাঁদের এই বৈঠকে প্রফেসর ইউনূস সামাজিক ব্যবসার তাত্তি¡ক ও ব্যবহারিক বিষয়গুলো নিয়ে তাঁর সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কীভাবে সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে তা ব্যাখ্যা করেন এবং সামাজিক ব্যবসা সম্বন্ধে তিনি জার্মানীতে যে বিপুল আগ্রহ লক্ষ্য করেছেন সে বিষয়েও স্পীকারকে অবহিত করেন।

উল্লেখ্য যে, সামাজিক ব্যবসা অ্যাকাডেমিয়া সম্মেলন ২০১৯ উপলক্ষ্যে প্রফেসর ইউনূস এখন বার্লিনে অবস্থান করছেন। প্রতি বছর আয়োজিত এই বৈশ্বিক সম্মেলনে সামাজিক ব্যবসার তত্ত¡ এবং বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসার উপর বিভিন্ন গবেষণা নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়ে থাকে। এই সম্মেলনে সামাজিক ব্যবসার উপর শিক্ষাদান ও গবেষণার সাথে যুক্ত অধ্যাপক ও গবেষকগণ সামাজিক ব্যবসার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং এ বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা কর্ম উপস্থাপন করেন। বার্লিনে অবস্থিত এ বছরের অ্যাকাডেমিয়া সম্মেলনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ২৩টি গবেষণা কর্ম উপস্থাপিত হয়। বিশ্বের ৩১টি দেশের ৮১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টারসমূহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি এ বছরের অ্যাকাডেমিয়া সম্মেলনে যোগ দেন।