সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত প্যান্ডেল

আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল।

এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি।

ক্ষমতাসীন দলের জেলা শাখার এ সম্মেলনে সাত হাজার নেতাকর্মীর জন্য আয়োজন করা হয়েছে দুপুরের খাবার। ১০টি ইউনিটের নেতাকর্মীদের মধ্যে পৃথকভাবে এই খাবার বিতরণ করা হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর সৈকত বলেন, সম্মেলনে সাত হাজার মানুষের জন্য বিরিয়ানি রান্না হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে প্রায় আট লাখ টাকা।

হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের সামনে রান্নাবান্নায় বাবুর্চির পাশাপাশি কাজ করছেন শতাধিক নেতাকর্মী।

খাবার বানানো হচ্ছে সম্মেলনে আসা মানুষের জন্য

তিনি বলেন, জেলার ১০টি ইউনিটের নেতাকর্মীদের জন্য ১০টি পিকআপ ভ্যানে পৃথকভাবে খাবার রাখা হবে। ইতোমধ্যে প্রতি ইউনিটের চাহিদা অনুযায়ী তালিকা করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের কয়েকটি টিম আলাদাভাবে এই খাবার পরিবেশন করবে। সকালের মধ্যেই রান্নাবান্না শেষ হবে বলে আশাবাদী তিনি।

এদিকে, সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নিমতলায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। সকাল ১১টায় সেখানে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিকেলে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

খাবার তৈরি দেখছেন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ

হবিগঞ্জ জেলার ঐতিহ্য অনুসারে এবারও যেন ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হয় সেই দাবি তৃণমূলের। তবে অনেকেই কেন্দ্রে জোর লবিং করেছেন যেন ভোট ছাড়াই কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে আটটি পদে ২৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে আবেদন করেছেন।

নির্বাচনে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির, সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হুসেন, সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ফজলে আলী ও অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম মোল্লা মাসুম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আবু বক্কর ছিদ্দিক ও মোতাচ্ছিরুল ইসলাম মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের ছয় পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও ২০ প্রার্থী।

২০১৩ সালের ১৩ জুন সবশেষ জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কাউন্সিলে গোপন ভোটে অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৩, ১৯৯৭ ও ১৯৯৩ সালেও ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ও আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জাঁকালো আয়োজনের জন্য আমরা দিনরাত কাজ করছি। সারা জেলায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবভাব বিরাজ করছে।