জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বেহাল দশায় উপনীত হয়েছে। ৭ বছর ধরে উদ্বোধন হচ্ছে না নতুন ভবন। আর এতে করে নতুন এ্যাম্বুলেন্স বিকল, জেনারেটর বিকল, ডাক্তার সংকট, এমটি ল্যাব, এমটি ডেন্টাল, ষ্টোর কিপার, গাইনি চিকিৎসক, ক্যামিষ্ট, এনেসতেশিয়া, ওয়ার্ড বয়সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে কমপ্লেক্সটি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ৩১ শয্যার হাসপাতালটিকে ৭ বছর পূর্বে ৫১শয্যায় উন্নিত করার পর স্বাস্থ্য সেবার মানবৃদ্ধি করার কথা থাকলেও দিন দিন প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসাসেবার মান হারাচ্ছে।

উপজেলার প্রায় ৩লক্ষাধিক জনসাধারণসহ পাশাপশি গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও ইউনিয়ন এবং কানাইঘাট উপজেলার বড় চতুল ইউনিয়নের চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন রোগীরা। তারা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫১শয্যায় হাসপাতালটি উন্নিত করা হলেও ৩১শয্যার ষ্টাফ দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। ৩১শয্যার হাসপাতালে ১০২জন ষ্টাফের বিপরিতে ৩৯জনের পদ শুন্য।

তিন উপজেলার মধ্যবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হওয়ার কারনে এবং এশিয়ান হাইওয়ে ঘন ঘন দূর্ঘটনা ফলে হাসপাতালটি জনগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

যে সকল পদ শুন্য রয়েছে সেগুলো হল জুঃ কঃ গাইনী অব্স ১টি শুন্য, জুঃ কঃ এ্যানেসঃ ১টি শুন্য, ডেন্টাল সার্জন ১টি শুন্য, মেডিকেল অফিসার ২টি পদে ১টি শুন্য, মেডিকেল অফিসার (হোমিওপ্যাথিক) ১টি পদ শুন্য, সহঃ সার্জন (নবসৃষ্ট) ৫টি পদের ২টি শুন্য, চিকিৎসক সহকারী ২টি পদের ১টি শুন্য, চিকিৎসক সহকারী (নবসৃষ্ট) ৫টি পদ শুন্য, ফার্মসিষ্ট ২টি পদ শুন্য, মেডিকেল টেকঃ (ল্যাব) ২টি পদ শুন্য, মেডিকেল টেকঃ (রেডিওগ্রাফি) ১টি পদ শুন্য, মেডিকেল টেক(ডেন্টাল) ১টি পদ শুন্য, সহকারি নার্স ১টি শুন্য, ক্যাশিয়ার ১টি পদ শুন্য, স্টোর কিপার ১টি পদ শুন্য, অফিস সহকারী ৩টি পদে ১টি শুন্য, স্বাস্থ্য সহকারী ২০টি পদে ৭টি শুন্য, জুনিয়র মেকানিক ১টি পদ শুন্য, অফিস সহায়ক ৪টি পদের ৩টি শুন্য, ওয়ার্ড বয় ৩টি পদে ৩জন থাকলেও ২জন ডেপুটেশনের অন্যত্র থাকায় ২টি পদ শুন্য, আয়া ২টি পদের ১টি শুন্য, নিরাপত্তা প্রহরী ২টি পদের ১টি শুন্য, বাবুর্চী ২টি পদের ১টি শুন্য, গার্ডেনার ১টি পদ শুন্য, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ৫টি পদের ১টি শুন্য রয়েছে।

উন্নতমানের সার্জারী অপারেশন থিয়েটার, উন্নত মানের এক্সরে, ই.সি.জি, আর.বি.এ মেশিন যন্ত্রপাতি থাকার পরও চিকিৎসক ও ষ্টাফ সংকটের কারনে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী।

অপরদিকে জৈন্তাপুর উপজেলা নতুন এ্যাম্বুলেন্সটি যান্ত্রিক সমস্যা দেখিয়ে বিকল রয়েছে, আধুনিক জেনারেটর থাকার পরও দীর্ঘ ২বৎসর যাবত বিকল, ওষধি বাগান থাকলেও পরির্চযার অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আমিনুল হক সরকার প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর ২বৎসর যাবত নষ্ট, এছাড়া এক্সরে মেশিন পুরাতন হওয়ায় কাজের অনুপযোগী, ই.সি.জি মেশিন এখনও ইনষ্টল করা হয়নি।

এ্যাম্বুলেন্স দ্রুত সময়ের মধ্যে সচল করা হবে।

অফিসার কোয়ার্টাস খালি পড়ে থাকার কারনে আপাতত আমি ব্যবহার করছি, এম.এল.এস সুমনের নামে বাসা বরাদ্ধ নিয়ে অন্যরা থাকছে বিষয়টি জানা নেই খোঁজ নিয়ে দেখছি। শুন্য পদের জন্য আমি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ১০বৎসর যাবৎ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনটি রোগীদের সেবায় কাজে লাগাছে না, তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

-নাজমুল ইসলাম