সার্ভার স্টেশন।ছবি সংগৃহীত

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিন তলায় ৩১১ নম্বর রুমটিতে করা হয়েছে সার্ভার স্টেশন। এ সার্ভার রুমেই সংরক্ষিত থাকবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীদের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত। তার পাশে ৩১০ নম্বর রুমটি ওয়ার্কিং স্টেশন। সেখান থেকেই মনিটরিং করা হবে সার্ভার স্টেশন। তবে সেগুলোতে এখনো অনলাইন সংযোগ স্থাপন করা হয়নি।

২৫ মে শনিবার জাতীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭ কোটি টাকার সফটওয়ার মেশিনের অস্তিত্ব নেই। সাত কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে সংবাদটিতে অভিযোগ আনা হয়। সংবাদটির পর তোলপাড় শুরু হয় গোটা হাসপাতাল সেক্টরসহ মিডিয়া পাড়ায়।

তবে সরেজমিনে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সার্ভার মেশিনসহ তার সঙ্গে যাবতীয় আনুসঙ্গিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। তবে সেগুলো এখনো অনলাইন সংযোগ দেওয়া হয়নি।

যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাণ মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মোক্তার হোসেন বলেন, মেশিনটি চালু হওয়ার পর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীদের সব তথ্য এখানে সংরক্ষিত থাকবে। এখানকার সব অপারেশন, ল্যাবের পরীক্ষা, রেডিওলজি এন্ড ইমোজিনসহ সব তথ্য এখানে রক্ষিত থাকবে। এখানে বসে চিকিৎসকরা বিশেষ প্রয়োজনে অনলাইনের মাধ্যমে দেশ বা দেশের বাইরের চিকিৎসকদের সঙ্গেও আলোচনা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা বা পরামর্শ নিতে পারবেন। জাপান থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে মেশিনটি সেটিং ও সফটওয়ার ইনস্ট্রল করবেন। মেশিনের সঙ্গে আনুসঙ্গিক সকল যন্ত্রপাতিও রয়েছে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী বলেন, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সার্ভার মেশিনটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাণকে বিল প্রদান করা হয় ১০ সেপ্টেম্বর। মেশিনটি সম্পূর্ণরুপে চালুর জন্য জাপান থেকে ইজ্ঞিনিয়ার এসে সেটিং করবে। তবে তারা দুই বার আসার সময় পরিবর্তন করেছেন। সেজন্য মেশিনটি চালু হতে দেরি হচ্ছে। জাপান থেকে ইঞ্জিনিয়ার আগামী ১৫ জুন আসবে বলে নতুন দিনক্ষণ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, জাপানের সেই ইঞ্জিনিয়াররা সাতক্ষীরা মেডিকেল ও ঢাকা মেডিকেল এই দুই জায়গায় এসে কাজ করবে। তারাই সফটওয়ার ইনষ্টল করবেন।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী আরও জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাণকে বিল প্রদান করা হলেও মেশিনটি সম্পূর্ণরুপে চালু না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাণের কাছ থেকে সাত কোটি টাকার সিকিউরিটি মানি রেখে দেওয়া হয়। জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমার সঙ্গে কোনরুপ এ সংক্রান্ত বক্তব্য নেওয়া হয়নি। ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। সাত কোটি টাকা লোপাট করেছি, মেশিনের কোন অস্তিত্ব নেই যার কোন সত্যতা নেই। মেশিনটি ৩১১ নম্বর রুমে রয়েছে।

বৈশাখী/সাতক্ষীরা