ঈদের ছুটিতে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে হবিগঞ্জের ‘সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান’ এ নামে ভ্রমণপ্রেমী মানুষের ঢল।

ঈদের দিন সারাদিন বৃষ্টি হলেও সেখানে টিকিট বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার টাকার। আর ঈদের ছুটিতে এর পরিমাণ বেড়ে ৫ লাখ ছাড়াবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে উদ্যানের ভেতরের অব্যবস্থাপনা আর ট্রি এডভেঞ্চার পরিত্যক্ত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে ঈদের আগ মুহূর্তে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ায় উদ্যানের পরিবেশ কিছুটা খারাপ হয়ে পড়েছে। একই সাথে ট্রি এডভেঞ্চার মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার অবস্থিত রঘুনন্দনর পাহাড়ের সাতটি ছড়া থেকে মূলত নামকরণ করা হয়েছে ‘সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান’। সবুজ প্রকৃতি আর বন্য প্রাণীদের দেখতে দর্শনার্থী ছুটে আসেন এখানে।

ঈদের ৩য় দিনে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল যোগে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মতো। দর্শনার্থীদের পাদচারণা আর নানা রকম পাখ-পাখালির শব্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে উদ্যানের চারপাশ। কেউ কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ছবি ও সেলফি তুলতে। শুধু উদ্যানের ভেতরেই নয়, পাশের সবুজ চা বাগানগুলোতেও অনেক দর্শনার্থী ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। স্মৃতি রাখার জন্য পরিবার পরিজনের সঙ্গে বন্ধী হয়েছেন এক ফ্রেমে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোন বৃষ্টি না হলেও ঈদের দিন দিনভর কখনো হালকা আবার কখনো ভারী বর্ষন হয়েছে। কিন্তু এই বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দর্শনার্থীর ঢল নামে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে। ওই দিন এই উদ্যান থেকে ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ঈদে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের জন্য খোলে দেয়া হয়েছে উদ্যানের পুরাতন গেটও (বর্তমানে যেটি পরিত্যক্ত)। অন্যসময় একটি গেল থেকে রাজস্ব আদায় করা হলেও ঈদ উপলক্ষে উদ্যানের তিনটি গেট থেকে রাজস্ব আদায় করছে কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে, পর্যটকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে নির্মিত ট্রি এডভেঞ্চারটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অজুহাতে বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তরুণ দর্শনার্থীরা।
ঘুরতে আসা তরুণ রুবেল দাস বলেন- ‘এখানে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। এছাড়া আমরা যারা তরুণরা রয়েছি তাদের সব চেয়ে বেশি পছন্দ ট্রি এডভেঞ্চার। যেটিতে ছড়ব বলে এসেছিলাম। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে পরিত্যক্ত করে রেখেছে।’

তিনি বলেন- ‘কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল ঈদের পূর্বে এটি মেরামত করা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা।’

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন- ‘পর্যটকদের সব ধরণের সুযোগ-সুবিধার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের নিরাপদ পানির জন্য এখানে একটি গভীর নলকূপ বসানো হচ্ছে।’

শায়েল/আজকের পত্রিকা