উদ্ধার হওয়া হরিণ।

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও কালেঙ্গা রেঞ্জের বনে মায়া হরিণের বিচরণ রয়েছে। এর প্রতি টার্গেট নিয়ে হরিণ পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ সজাগ থাকার পরও পাচারকারীরা সুযোগে হরিণ শিকার করার চেষ্টায় রয়েছে। এরইমধ্যে সাতছড়ি থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে ধরে নেওয়া মায়া হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ১৯১২ সালে জেলার চুনারুঘাট উপজেলার পাহাড়ি প্রায় ১০ হাজার একর দূর্গম পাহাড়ি জমি নিয়ে গঠিত হয় রঘুনন্দন হিলস্ রিজার্ভ। এরপর প্রায় ৩৭৫০ একর জমিতে প্রতিষ্ঠা পায় সাতছড়ি রেঞ্জ। সাতছড়ি ও তেলমাছড়া বিট নিয়ে এ রেঞ্জ পরিচালিত হয়ে আসছিল। এরইমধ্যে ২০০৫ সালে ৬০০ একর জমিতে উদ্যান করা হয়। এ উদ্যানের ভেতরে ৩০টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস।

জীববৈচিত্র্যের মধ্যে ১৯৭ প্রজাতির জীব-জন্তু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর। আরো আছে প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি। এটি বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং পাখিদের একটি অভয়াশ্রম। বনে লজ্জাবতী বানর, উল্লুক ,চশমাপরা হনুমান, শিয়াল, কুলু বানর, মেছোবাঘ, মায়া হরিণের বিচরণও রয়েছে।

এছাড়া সরিসৃপের মধ্যে সাপ, পাখির মধ্যে কাও ধনেশ, বনমোরগ, লালমাথা ট্রগন, কাঠ ঠোকরা, ময়না, ভিমরাজ, শ্যামা, ঝুটিপাঙ্গা, শালিক, হলদে পাখি, টিয়া প্রতৃতির আবাসস্থল। গাছে গাছে আশ্রয় নিয়েছে অগণিত পোকামাকড়, ঝিঁঝিঁ পোকা তাদের অন্যতম।

বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১২ এপ্রিল শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সাতছড়ি উদ্যানের ভেতরে সড়ক পারাপার হতে গিয়ে কাটা তারের বেড়ায় আটকা পড়ে একটি মায়া হরিণ। এসময় সড়ক দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বালু নিতে আসা একটি ট্রাকের চালক (পরিচয় জানা যায়নি) হরিণটি দেখতে পায়ে তাড়াহুড়া করে উদ্ধার করে চুনারুঘাটের দিকে নিয়ে যায়। এসময় তাড়াহুড়া করতে গিয়ে হরিণের সিংগুলো ভেঙে ফেলেন ওই ট্রাক চালক।

পায়ের খুরায় মারাত্মক আঘাত পায় এবং শরীরের কাটা-ছেড়ার আঘাতের যন্ত্রণায় ট্রাকের ওপর থেকে চুনারুঘাট বাজারের টু-স্টার হোটেল সামনে লাফিয়ে পড়ে যায় মায়া হরিণটি। এসময় ট্রাকের চালক ভয়ে হরিণটি রেখেই ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়।

কয়েকজন লোক এটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় সাতছড়ি রেঞ্জের তেলমা বিটের বন প্রহরী মহিতুল ইসলাম এ ঘটনা দেখতে পান। বিষয়টি তিনি বন বিভাগের সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন ও বিট কর্মকর্তা রুমি সামসুদ্দিনকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে হরিণটি উদ্ধার করেন।

তাৎক্ষণিক এটিকে চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হরিণটি অনুমানিক লম্বায় সাড়ে ৩ ফুট এবং প্রস্থ আড়াই ফুট হবে। পায়ের খুরা ভেঙে যাওয়ায় হরিণটি উঠে দাঁড়াতে পারছে না।

এ ব্যাপারে সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, বর্তমানে হরিণটি অসুস্থ। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিট কর্মকর্তা রুমি সামসুদ্দিন বলেন, ঘটনার পর পরই কাটা তারের বেড়ায় আটক স্থানটি চিহ্নিত করা হয়েছে। হরিণটি কাটা তারে আটকা পড়ার কারণেই ট্রাক চালক এটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। হরিণটির বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিবেশ প্রেমিকরা কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো দাবী জানিয়েছেন।

আজকের পত্রিকা/মামুন চৌধুরী/হবিগঞ্জ