পানিতে ভেসে উঠা ওষুধ।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্টিনের পেছনে সেফটি ট্যাংকের পাশে মাটির নিচে পুতে রাখা দশ বস্তা সরকারি ওষুধ বৃষ্টির পানিতে ভেসে ওঠে।

এরপর ২৫ মে শনিবার দুপুরের পর ঘটনাটি নজরে আসে সবার।

এদিকে, মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ এই ওষুধের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় ২৬ মে রবিবার দুইটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠণ করেছেন। সেখানে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ডা. কামরুজ্জামাকে।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রেভিনিউ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা সদর ইউএনও, পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধি ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধি।

তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্টের পর ঘটনার রহস্য উৎঘাটন করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে সদর থানায় পৃথক একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের পর ঘটনাস্থল থেকে ওষধের কিছু স্যাম্পল আমরা সংগ্রহে রেখেছি। ওষুধগুলোর মেয়াদ রয়েছে। কমপক্ষে দশ বস্তা সরকারি ওষুধ মাটির নিচে পুতে রাখা হয়েছিল। বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে ওষুধগুলো বেরিয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দৃষ্টিতে আসে সকলের। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।

ওষধের ঘটনায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী বলেন, শনিবার অফিস শেষে বাসায় ফেরার পর ঘটনাটি আমি জানতে পারি। রবিবার অফিসে এসে ঘটনার রহস্য উৎঘাটনে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠণ করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওষুধগুলো মাটির নিচে কিভাবে গেলো ? ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে আমার দায়িত্বকালীন সময়ে কোন ওষুধ খোয়া যায়নি। এছাড়া মাটির নিচে পাওয়া ওষধগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত টিম গঠণ করা হয়েছে জানিয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে জানানো হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

বৈশাখী/সাতক্ষীরা