‘আর কি বসবে এমন সাধুর সাধবাজারে,
না জানি কোন সময় কী দশা হয় আমারে’

যে গান আবেগতাড়িত করে আমাদের, দেহতত্ত্ব আর মাটির কথা ফুটে ওঠে যে গানে, সেটাই তো আমাদের লোকগান। লোকসংগীতের অমিয় সুধা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে গত চার বছরের পরিক্রমায় এবারও সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯’।

পঞ্চমবারের এই আয়োজনের শেষ দিনে ছিল উপচেপড়া ভিড়। শ্রোতাদের এই বাঁধভাঙা উল্লাস প্রমাণ করে এ দেশের মানুষ লোকগানকে কতটা ভালোবাসে। শেষদিনে দর্শক মাতাতে মঞ্চে ছিলেন বাংলা লোকসংগীতের এক অনন্য নাম আলহাজ আব্দুল মালেক কাওয়াল, জনপ্রিয় লালন সংগীতশিল্পী চন্দনা মজুমদার, রাশিয়ার কারেলিয়া অঞ্চলের জনপ্রিয় ব্যান্ড সাত্তুমা এবং উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি ব্যান্ড পাকিস্তানের জুনুন।

সর্বশেষ পরিবেশনা জুনুন’র জন্য যেন মুখিয়ে ছিল পুরো আর্মি স্টেডিয়াম। জুনুনের সদস্যরা একে একে মঞ্চে উঠতেই চারিদিকে শুরু হয় তুমুল করতালি৷ জুনুনের ভোকাল আলী আজমত তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘সাইওনি’ গাওয়া শুরু করতেই পুরো আর্মি স্টেডিয়াম যেন এই গানের সুরের সঙ্গে দুলে ওঠেছিল। এরপরই তারা গায় ‘দামা দাম মাস্ত কালান্দার’, এ সময়ও সব বয়সীরা একই সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।

‘সিতারোছে’, ‘তুহি মেরা মওলা শাহী’, ‘মাট্টি মে মিল যায়েঙ্গে ভুলো না, তেরি জিন্দেগি, ইয়ার মেরা দিল নেহি লাগতা ‘সহ একাধিক গান হায় বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ব্যান্ডদলটি। জুনুনের সঙ্গে মেতে ওঠে এদিন আর্মি স্টেডিয়ামে সমবেত হওয়া লক্ষাধিক সঙ্গীতপ্রেমী মানুষ। রাত ১২টায় সাঙ্গ হয় এ বছরের ফোক ফেস্টের আয়োজন।

ফোক ফেস্টের এবারের আসরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬টি দেশ থেকে ২০০ জনের বেশি লোকশিল্পী ও কলাকুশলী অংশ নিয়েছেন। প্রতিবারের মতো এবারও দর্শক বিনামূল্যে শুধুমাত্র অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করতে পেরেছেন। অনুষ্ঠানটির টিভি সম্প্রচারের দায়িত্বে ছিল মাছরাঙা টেলিভিশন।

আজকের পত্রিকা/সিফাত