প্রবীর সিকদারের কুত্তপুত্তলিকা দাহ করা হটেচ্ছ।

‘ফরিদপুর জেলার সর্বস্তরের সচেতন হিন্দু সমাজ’ এর ব্যানার এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও উত্তরাধিকার ৭১ নামে নিউজ পোর্টালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সম্পর্কে কটুক্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে ফরিদপুরে।

১৬ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনের মুজিব সড়কে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে কয়েক হাজার’ নারী ও পুরুষ অংশ নেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ফরিদপুর সদর শাখার সাবেক কমান্ডার ও ঝিলটুলী পুরাতন কালিবাড়ি মন্দিরের সেবায়েত মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ চক্রবর্তী ভানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশ বক্তাগণ, প্রবীর শিকদারের বিরুদ্ধে সূদীর্ঘদিনযাবত সাম্প্রদায়িক উস্কানিমুলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ এনে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।

প্রবীর শিকদার হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ নন বলেও তারা উল্লেখ করেন।

প্রবীর সিকদারের কুশপুত্তলিকা

সমাবেশে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, প্রবীর শিকদার দূর্বৃত্তদের হামলায় পা হারানোর পর আজকের এই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব প্রচেষ্টায় সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা করিয়ে তার পা পুন:স্থাপন করান। আজ শেখ হাসিনার দেয়া সেই পায়ের উপরেই ভর করে তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিষদগার করে চলেছেন। এমনকি তিনি সবশেষ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধেও ফেসবুকে প্রচারণা চালান।

ফরিদপুর পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ সাহা প্রবীর শিকদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রবীর শিকদার যেভাবে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন তাতে তাকে আর ক্ষমা করা যায় না। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের শক্রতে পরিণত হয়েছেন।

ফরিদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট অশোক কুমার সাহা বলেন, আপনি সাবধান হয়ে যান। সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি বিনষ্ট করবেন না।

ফরিদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ বলেন, ফরিদপুরের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান যুগের পর যুগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করছে। অথচ এখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নামে কুৎসা রটানো হচ্ছে। কটুক্তি করা হচ্ছে। আমি এর তিব্র নিন্দা জানাই এবং উপযুক্ত বিচার চাইছি।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ঝর্ণা হাসান বলেন, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের আজকের এই কর্মসূচীর সাথে জেলা আওয়ামী লীগ একাত্মতা প্রকাশ করছে। যেভাবে প্রমাণ ছাড়া আপনি একের পর এক নেতৃবৃন্দের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, আপনার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানহানি মামলা হওয়া উচিত।

প্রয়োজনে আপনার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল বের করবো।

ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত আলী জাহিদ বলেন, প্রবীর শিকদারের ফাঁসির দাবি করছি। তিনি ফরিদপুরের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ ও খৃষ্টানদের সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র করছেন।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল প্রবীর শিকদারের এহেন জঘন্য প্রবণতার নিন্দা জানিয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের কর্মসূচীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহিদ বেপারী বলেন, তিনি সম্প্রতী সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত যুবলীগ নেতা কমল কুমার দাস কৌশিকের মৃত্যুর ঘটনাকে নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। আপনার লেখার কারণে যদি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় তবে আপনি দায়ি থাকবেন।

ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ বিন ওয়াজদ ফাইন বলেন, প্রবীর শিকদার ফরিদপুরের রাজননৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চরম ভিত্তিহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা তাকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করলাম।

ফরিদপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক ও পুজা উদযাপন কমিটির অন্যতম নেতা অ্যাডভোকেট স্বপন পাল প্রবীর শিকদারকে ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফরিদপুরে যারা প্রবীর শিকদারের দোসর রয়েছেন তারাও সতর্ক হয়ে যান।

প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

ঐক্য পরিষদের আরেক নেত্রী অ্যাডভোকেট সুচিত্রা শিকদার প্রবীর শিকদারকে ফেসবুক সন্ত্রাসী উল্লেখ করে বলেন, আপনি ভাল কাজে ফেসবুক ব্যবহার করুন। পরিস্কার জায়গাকে খুঁচিয়ে ঘা বানাবেন না।

রুকসুর সাবেক ভিপি নিপুণ কর্ম্মকার বলেন, মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে তিনি ফরিদপুরে সাম্প্রদায়ীক বিষবাস্প ছড়াচ্ছেন। আজকের এই কর্মসূচীর সাথে আমরা একাত্মতা ঘোষনা করছি।

“ফরিদপুর জেলার সর্বস্তরের সচেতন হিন্দু সমাজ” এর ব্যানার এ আয়োজিত এ মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট অসিত কুমার মজুমদার, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, ফরিদপুরের সরকারি কৌঁসুলি দুলাল চন্দ্র সরকার, ফরিদপুর সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্ণা হাসান ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ সাহা প্রমুখ।

বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রবীর সিকদারের দুইটি কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয় ।

ইয়াকুব আলী তুহিন/ফরিদপুর