সরাইলে পুকুরের নামে বালু উত্তোলন : কৃষি জমির ক্ষতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে ফসলী জমি কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে সরকারী খালসহ কৃষকদের কৃষি জমি ভেঙ্গে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে ৩৩ কেভি বৈদ্যুতিক লাইনের খুঁটি। যে কোন মূহুর্তে খুঁটিগুলো ধসে পড়ে সরাইল-নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন হয়ে পড়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, সরাইল উপজেলার বারিউড়া মৌজার বারিউড়া- ইসলামাবাদ মাঠ লাহুর নদী সংলগ্ন (লাওয়াই খাল ) পূর্ব পাশের কৃষিজমি থেকে ইসলামাবাদ গ্রামের মোঃ মফিজ মিয়ার ছেলে মোঃ আল আমিন ও মোস্তাক এবং চান মিয়ার ছেলে মোঃ তামান্না মিয়া ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে গভীর গর্তের সৃষ্টি করে আশপাশের কৃষকদের ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে। বালু খেকোদের আগ্রাসী থাবায় ভাঙ্গনের উপক্রম হয়েছে সরকারী খালের পাড়। বন্ধ হয়ে পড়ছে ফসলী মাঠের পানি নিষ্কাশনের ভাটি।

জমির ক্ষতিগ্রস্ত মালিকরা জমির ভয়াবহ ভাঙ্গনের হাত থেকে রেহাই পেতে এবং বালু উত্তোলনকারীদেরকে থামাতে এলাকার সাহেব সর্দারের শরনাপন্ন হয়েও তারা কোন প্রতিকার পায়নি। বালু উত্তোলনকারীরা বরং উল্টা দম্ভ দেখিয়ে ঘোষনা দিয়েছে, “আমরা আমাদের জমি থেকে বালু উত্তোলন করছি তাতে অন্যদের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।”

অবশেষে নিরুপায় হয়ে নিরীহ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নির্বাহী অফিসার সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ দুই দফায় পুলিশ পাঠিয়েও বন্ধ করতে পারেনি প্রভাবশালী বালু উত্তোলন- কারীদের অন্যায় ও জনস্বার্থে বিরোধী কর্মকান্ড। এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকরা বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করার কারনে গতকাল মিডিয়া কর্মীদের সামনেই অভিযোগকারীদের উপর চড়াও হয় আলামিন গংরা।

এ বিষয়ে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মফিজ উদ্দীন ভূইয়া বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত শরীফ উদ্দীনের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক আমি পুলিশ পাঠিয়ে বালি উত্তোলন বন্ধ রেখেছি।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ এ এস এম মোসা বলেন, অনুমতি ছাড়া জমি কেটে পুকুর তৈরী করা অন্যায় । এ বিষয়ে আমি অফিসার ইনচার্জকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

আজকের পত্রিকা/মোঃ এনামুল হক,ব্রাহ্মণবাড়িয়া/শায়েল