সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৪১ (১) ধারা বাতিল করা হবে না কেন তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এই ধারা বাতিল করলে ফৌজদারি মামলায় কোনো সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতারে পূর্বানুমতির দরকার হবে না।

এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আদেশ দেন।

সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৪১ (১) ধারা কেনো বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না এবং একই সঙ্গে এ ধারাটিকে কেনো সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সরকারের অনুমতি সংক্রান্ত আইনের ওই ধারাটি চ্যালেঞ্জ করে হিউম্যান রাইটস এন্ড পীস ফর বাংলাদেশের পক্ষে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন আইনজীবী সরোয়ার আহাদ চৌধুরী, একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া ও মাহবুবুল ইসলাম।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রিপন বাড়ৈ ও সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন ৪১ (১) ধারায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৪ অক্টোবর জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে ২১ অক্টোবর সোমবার আদালত রুল জারি করেন।

তিনি বলেন, একই ধরণের সুযোগ দিয়ে ২০১৩ সালে দুদক আইনের ৩২ (ক) ধারা প্রণয়ন করলে জনস্বার্থে রিটের পর আদালত আইনটিকে বৈষম্যমূলক বলে বাতিল ঘোষণা করেন। একই সুযোগ সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারিদের দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে ওই আইনের ৪১ (১) ধারা আদালতের রায়ের পরিপন্থী।

২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর সরকারি চাকরি আইনের গেজেট জারি হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এক গেজেটে বলা হয়-১ অক্টোবর থেকে এ আইন কার্যকর হবে।

আইনের ৪১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সহিত সম্পর্কিত অভিযোগে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হইবার পূর্বে, তাহাকে গ্রেফতার করিতে হইলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।’

আজকের পত্রিকা/কেএফ/সিফাত