সিলেট জেলা ও মহানগর আ’লীগের সম্মেলনের প্রবেশপথ

আজ বৃহস্পতিবার আট বছর পর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঐতিহাসিক সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে বেলা ১১টায় সম্মেলন শুরু হবে। সম্মেলন শেষে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।

বর্তমানে সিলেট মহানগরে সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ এবং সিলেট জেলার সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান দায়িত্বে রয়েছেন। তবে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, গত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ভরাডুবির কারণে বড় পদগুলোতে পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে গত কয়েকদিন থেকে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে সিলেট। নেতাকর্মীরা পদ-প্রত্যাশী নেতাদের পক্ষ থেকে নগরজুড়ে লাগানো হয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন ও বিভিন্ন নেতাদের অনুসারীরাও প্রচার মিছিলের আড়ালে নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিয়েছেন। সব মিলিয়ে সম্মেলনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ রয়েছে সিলেট আওয়ামী লীগ পরিবারে। তবে উৎসবের মধ্যেও রয়েছে উৎকণ্ঠা। কারণ কাউন্সিল না সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি হবে তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।

এছাড়া জেলায় শীর্ষ দুই পদেও আসতে পারে পরিবর্তন। কারণ দীর্ঘ দিন থেকেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান। বয়স আর অতিরিক্ত দায়িত্ব কমাতে হয়তো এই পদে নতুন মুখের দেখা মিলতে পারে। এক্ষেত্রে সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।

এছাড়া আলোচনায় আছেন, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ এমপি।

আর জেলার সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান ও উপ দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন ও অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক।

অন্যদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদে নতুন-পুরাতন মিলিয়ে আলোচনায় রয়েছেন, বর্তমান সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মফুর আলী, যুগ্ম সম্পাদক সাবেক সিটি কাউন্সিলর ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, অধ্যাপক জাকির হোসেন, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল, শিক্ষা সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ।

সম্মেলন নিয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর সম্মেলনের জন্য পুরোটাই প্রস্তুত সিলেট আওয়ামী লীগ। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিনে ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। বিগত দিনে নেত্রী যেভাবে বলছেন তা মেনে নিয়েছি। এখনও সিলেট জেলা ও মহানগরে নেত্রী যাকেই মনোনীত করবেন তাকেই সাদরে গ্রহণ করবো।’

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন কামরান বলেন, সিলেট মহানগর সম্মেলনও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হবে বলে আশা করছি। তবে নিজের কিছু বলার নেই উল্লেখ করে বলেন, আমার কোনও কিছু বলার নাই। তবে নেত্রী যাকেই মনোনীত করবেন তার নেতৃত্বই মেনে নিবো। নেতা নির্বাচনে নেত্রী কখনই ভুল করবেন না এমনটাই আমার বিশ্বাস। দলকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। পদ পদবী অনেকই প্রত্যাশা করতে পারে তবে সবাই তো আর এক সাথে পদ পাবে না। নেত্রী যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই নেতৃত্ব দিবেন। এখানে নেত্রীই একমাত্র ভরসা।

প্রসঙ্গত, সিলেট আওয়ামী লীগে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়েছিল ২০০৫ সালে। এরপর ২০১১ সালে সম্মেলন ছাড়াই গঠিত হয় কমিটি। তিন বছর মেয়াদি সে কমিটি ইতোমধ্যে পার করে দিয়েছে আট বছর।