সমন্বিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নবিদ্ধ !

দেশে প্রথমবারের মতো সমন্বিতভাবে সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনকারী প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই প্রাথমিকভাবে বাদ পড়েছে। রবিবার সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রাথমিক বাছাই লিস্টে আবেদনকারী ৭৪ হাজার ৪৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৮ হাজার ৯৫৬ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বাদ পড়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত অন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৬.৫-৭.০০ জিপিএ নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারলেও এবার আর দিতে পারবেন না। অন্যদিকে বাদ পড়া ৩৮ হাজার ৯৫৬ জন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে দেয়া না হলেও তাদের আবেদনের প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা আর ফেরত দেয়া হবে না। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হৈচৈ শুরু হয়েছে।

বাকৃবির প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয় ব্যতীত ন্যূনতম ৭.০০ থাকলে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন এবং মোট আসনের ১০ গুণ অর্থাৎ ৩৫ হাজার ৫৫০ জন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া হবে। এছাড়া অনলাইনে আবেদনের জন্য সকল প্রার্থীকে ১০০০ টাকা ফি দিতে হবে। এরই প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৭৪ হাজার ৪৫৬ টি আবেদন জমা পড়ে।

জিহাদুল ইসলাম নামের এক প্রার্থী বলেন, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ অবশ্যই ভালো কিন্তু চতুর্থ বিষয় ছাড়া ৯.১৫ মানায় না। এমন হলে সমন্বিত না থাকাই ভালো ছিলো, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাড়া বাকি বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে অন্তত পরীক্ষা দিতে পারতাম।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমার মনে হয় সমন্বিত এ ভর্তি পরীক্ষায় সবাইকে অংশ নিতে দেওয়া উচিত। তবে যদি সকলকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া না হয়, সেক্ষেত্রে যারা অংশ নিতে পারছে না তাদেরকে আবেদনের টাকা ফেরত দেয়া উচিত।

ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান জানান, এবারের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতার ওপর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা হয়েছে। নির্বাচিত আবেদনকারীদের ফি ফেরতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষে উদ্বৃত থাকা সাপেক্ষে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তানিউল করিম জীম/বাকৃবি