‘ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি’। প্রতিদিনের মতো সাপ্তাহিক মাসিক বা ধর্মীয় বিশেষ কোন অনুষ্ঠানে সকলে যখন পরিবার পরিজন নিয়ে ঘরের চার দেয়ালের মাঝে অবসর সময় কাটান। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে থাকেন। কিন্তু পরিবারের কাছে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনা সাংবাদকর্মীদের। একজন মফস্বল সাংবাদিকের সেই কাহিনী লিখেছেন আজকের পত্রিকার পার্বতীপুর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

ঈদের জামাত সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠিত, রাস্তার মাঝেই ঈদের নামাজ আদায় করছেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা, রোড এক্সিডেন্ট কেড়ে নিলো ২০ প্রাণ, ঈদে বাড়ি যাওয়া হলো না ওমুকের ইত্যাদি সংবাদ সংগ্রহে ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের।

এছাড়াও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ডিজিটাল এ সময়ে সর্বদা সযাগ থাকেন তারা। বর্তমান সময়ে কে কার আগে কত দ্রুত সংবাদ পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পারে তার একটি প্রতিযোগিতা চলে তাদের মধ্যে।

কিছুকিছু প্রতিষ্ঠান তাদের জেলা পর্যায়ে প্রতিনিধিদের বিভিন্ন অর্থিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করলেও উপজেলার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ হাউজই তা করে না। তবে কাজের দিক বিবেচনায় পিছিয়ে নেই মফস্বল সংবাদকর্মীরা। সকল কাজের কাজী তারা।

স্টাফ রিপোর্টারদের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কাজের পরিধি বিটভিত্তিক (নির্দিষ্ট বিষয়) হলেও মফস্বলে তা নেই। মন্ত্রীর আনুষ্ঠান থেকে শুরু করে আত্মহত্যা, এক্সিডেন্ট, ব্রীজ তৈরীতে রডের বদলে বাশ, দূর্নীতিসহ সকল নিউজ জীবন বাজি রেখে কাভারেজ করে থাকেন তারা। এতে অনেক সময় মামলা হামরারও শিকার হন অনেকে। কিন্তু সুযোগ সুবিধার দিক থেকে তেমন কিছু পাননা বললেই চলে। তবুও থেমে থাকে না তাদের সংবাদ সংগ্রহের কাজ।

পরিবার পরিজনের সাথে থাকার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেও নেশা হিসেবেই এ কাজ করে থাকেন মফস্বলের সংবাদকর্মীরা। বাড়িতে থাকা মানুষের মুঠোফোনে কিংবা টিভি সেটের সামনে বসা ব্যক্তিদের সর্বশেষ সংবাদ জানাতে ব্যস্ত তারা। এসবের মধ্যদিয়ে আনন্দ খুঁজে নেয়ার পাশাপাশি জীবনকে উপভোগ করেন সাংবাদিকরা।

ভালো কিছুর আশায় দিনের পর দিন কাজ করে যান এসব মানুষ। তাদের ও পরিবার পরিজন আছে। তাই মফস্বলের সংবাদকর্মীদের প্রতি সু-দৃষ্টি দিতে সংশ্লষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

  • 70
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    70
    Shares