ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে গুজবের মাধ্যমে উদ্ভট রকমের অরাজকতা দেখা দিয়েছে। শুধুমাত্র সন্দেহের বশে সারা দেশে গত ৪৮ ঘণ্টায় পিটিয়ে মারা হয়েছে ৮ জনকে। ‘পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে মানুষের মাথা লাগবে’- এমন গুজব ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ায় ভয়াবহ এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে চারপাশে। আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ কোনো যৌক্তিকতা ধার না ধরে সন্দেহের বশে ঘটিয়ে ফেলছে গণপিটুনির ঘটনা।

এমন পরিস্থিতিতে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তির খোঁজ পেলে কিংবা খোদ নিজেই যদি কেউ এই রকম পরিস্থিতির শিকার হয়ে পড়েন, তবে ন্যাশনাল হেল্প-ডেস্ক- এর ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেওয়া বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে।

২২ জুলাই সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক সাঈদ তারিকুল হাসান সারাদেশের পুলিশের ইউনিটকে এক বার্তায় ছেলেধরার গুজব বন্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব এবং ব্লগগুলো নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ছেলেধরা-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিলে বা শেয়ার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেখানে। এছাড়া ওই বার্তায় বলা হয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিতে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে প্রশিক্ষিত এজেন্টরা জরুরি ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশ কিংবা এ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদানকারীর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন। এখানে যারা কল রিসিভ করেন তাদেরকে বলা হয় কল টেকার। তাদের তত্বাবধানের দায়িত্বে আছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা এখানে চারটি শিফটে কাজ করেন ২০০’র বেশি কর্মী।

জরুরি সেবা কার্যক্রমে একই সময়ে ১২০ জন সাহায্যপ্রার্থী কথা বলতে পারবেন। ৯৯৯ এ কল করতে কোনো টাকা খরচ হবে না। মোবাইল ফোনে টাকা না থাকলেও বিপদগ্রস্ত যে কোনো নাগরিক দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ৯৯৯- এর মাধ্যমে পুলিশসহ অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর সাহায্য নিতে পারবেন।

জরুরি সেবা ছাড়াও কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে, প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিলে, কোনো হতাহতের ঘটনা চোখে পড়লে, হতাহতের আশঙ্কা তৈরি হলে, আশেপাশে দুর্ঘটনা ও আগুনের ঘটনা তাৎক্ষণিক এই নম্বরে কল দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত