কাজী ফয়সাল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

'সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের করণীয়' শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনার। ছবি : আজকের পত্রিকা

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। একই সঙ্গে সকল নির্বাচিত কাউন্সিলরদেরও এই কাজে সম্পৃক্ত করবেন বলেও জানান তিনি।

১৩ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে ডিএসসিসির মেয়র এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সিটিটিসি। এতে সভাপতিত্ব করেন সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

মেয়র বলেন, শতবছরের শান্তিপ্রিয় এ বাংলার মাটিতে হঠাৎ অশান্তির যে ছায়া পড়েছে। সেটি অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে। এজন্য আমরা ডিএসসিসির সকলে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করবো। এজন্য সকল কাউন্সিলরদেরও সম্পৃক্ত করা হবে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা একটি শান্তিপ্রিয় জনপদ রেখে যেতে চাই আগামী প্রজম্মের জন্য। আসুন আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে সকলে মিলে প্রতিরোধ করবো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আশ্বস্ত করেই বলছি- নগর কর্তৃপক্ষ, নগরের নাগরিকবৃন্দ, নগরের যত প্রতিনিধি এবং কর্তকর্তা-কর্মচারী রয়েছে সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সিটিটিসিকে সহযোগিতা করবো।

তিনি আরো বলেন, আমরা যে অর্জন করেছি প্রাণপ্রিয় নেত্রীর নেতৃত্বে এবং যে লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি, সেই লক্ষ্য ব্যাহত হয়ে যেতে পারে যদি আমরা এ সহিংস উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি। কোনোভাবেই যদি শুরু হয়ে যায় উগ্রবাদ তাহলেই সমস্ত অর্জন কিন্তু একেবারেই ম্লান হয়ে যাবে। আমাদের ভাববার বিষয় এখনই। কারণ যেদেশের গ্রামগঞ্জে একসময় ঠিকমতো বস্ত্র ছিল না সাধারণ মানুষের। আজ সে বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। যে দেশে যক্ষা, পোলিও রোগে গ্রামের পর গ্রামে শিশুর মৃত্যু ঘটতো। সে বাংলাদেশ আজকে পৃথিবীর ১২২টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে বিশ্বে দ্বিতীয় ওষুধ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু মাত্র সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিশ্রমের কারণে। সম্ভব হয়েছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগে ছুঁয়ে গেছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক অগ্রগতির দেশ বাংলাদেশ। অনেক প্রতিবেশি দেশেও এখনও প্রবৃদ্ধির হার নিচে নেমে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কারণ আমাদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশ আজ মজবুতভাবে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হচ্ছে। উন্নয়ণ হচ্ছে জীবনমানের। কিন্তু এটি থমকে যেতে পারে যদি না আমরা উগ্র-সহিংতাবাদকে একসাথে একযোগে নিয়ন্ত্রণ না করি। এটি হঠাৎ হঠাৎ চলে আসতে পারে। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আছে। সেজন্য সিটিটিসিকে ধন্যবাদ জানায়। কিন্তু এটিকে অব্যাহত রাখতে নাগরিকদের সচেতনতা এবং সম্পৃক্ততার বিকল্প নেই। সকল পরিবর্তনের মূল শক্তি সচেতনতা যদি আমাদের জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ওপর ছড়িয়ে দেয় তবেই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা কাঁধ কাঁধ মিলিয়ে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে সফল হবো।

আজকের পত্রিকা/কেএফ/আ.স্ব