মঞ্চে কৈলাশ খের। ছবি : গানবাংলা

ভালোবাসা ও গানে বিশ্বময় শান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ ও আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠিত হলো মিউজিক ফর পিস কনসার্ট। কৈলাশ খেরের সুফিবাদী গানে, অদিতি সিং শর্মার আসর মাতানো পারফরম্যান্সে অনুষ্ঠিত হলো এ কনসার্ট। বাংলার জনপ্রিয় সব লোকগানের উপস্থিতি ও সন্নিবেশ ঘটিয়ে তাপস এন্ড ফ্রেন্ডস এর পরিবেশনায় উঠে আসে জনপ্রিয় সব গান আর লালন-হাছনের অমিয় সব বাণী।

বিশ্ব শান্তি দিবসে গান বাংলা টেলিভিশনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ কনসার্টের লক্ষ্য ‘মিউজিক ফর পিস’ অর্থাৎ ‘শান্তির জন্য সংগীত’ স্লোগানকে আরও সার্বজনীন করে তোলা। সংগীতের মাধ্যমে শান্তিময় একটি পৃথিবীর রচনার লক্ষে গানবাংলা টেলিভিশনের আন্তর্জাতিকমানের সংগীতায়োজন উইন্ড অব চেঞ্জ ইতোমধ্যেই ভূমিকা রেখে চলেছে।

জনপ্রিয় উপস্থাপিকা শিনা চৌহানের উপস্থাপনায় কনসার্টের শুরুতেই প্রদর্শিত হয় ‘উইন্ড অফ চেঞ্জ’-এর ‘মিউজিক ফর পিস’ স্লোগানের স্বপক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিখ্যাত মিউজিশিয়ানদের বক্তব্য নিয়ে একটি তথ্যচিত্র।

কনসার্টের শুরুতেই বক্তব্য দিতে আসেন গানবাংলা টেলিভিশনের চেয়ারপার্সন ফারজানা মুন্নি। তিনি বলেন, “গানের মাধ্যমে আমরা সারা পৃথিবীকে এক সুতোয় বাঁধতে চাই। আমরা একটা জিনিস শিখেছি সেটা হলো ভালোবাসা। মানুষের অন্তরে ভালোবাসা থাকলে পৃথিবীতে এত হানাহানি থাকতো না, কেউ কাউকে মেরে ফেলতো না। আমরা চেষ্টা করছি গানের মাধ্যমে সেই ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়ার। আমাদেরকে সারাদেশের মানুষ সমর্থন করেছে। শিল্পীরা সমর্থন করেছে। নইলে আমরা এতদূর আসতে পারতাম না।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। ভালোবাসা ও গানে বিশ্বময় শান্তি ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বে শান্তির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সংগীত এবং ভালোবাসা। তাপস-মুন্নি শান্তি ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সংগীতকে বেছে নিয়েছেন। আমরা এমন একটি বিশ্ব গড়তে চাই যে বিশ্বে হানাহানি, যুদ্ধ-হত্যা থাকবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমৃত্যু ভালোবাসার জয়গান গেয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংগীতের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলো। জর্জ হ্যারিসন নিউইয়র্কে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছিলো। সংগীতই পারে শান্তির পৃথিবী গড়ে তুলতে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেন, “এবার বিশ্ব শান্তি দিবসের শ্লোগান ছিলো ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ফর পিস’। বিশ্বময় জলবায়ু পরিবর্তন এখন শান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। বাংলাদেশও জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। বিশ্বের কাছে প্রকৃতির সুরক্ষায় আমাদের সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। সংগীত এর জন্য সবচেয়ে সুন্দর মাধ্যম হতে পারে। কেননা সংগীতের ভাষা সার্বজনীন।”

‘মিউজিক ফর পিস’ স্লোগানের স্বপক্ষে শান্তির দূত হয়ে এই প্রথম বাংলাদেশে এসেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নারগিস ফাখরি।

তিনি বলেন, “আমি এখানে এসেছি ‘মিউজিক ফর পিস’ স্লোগানের স্বপক্ষে। কেননা সংগীত সার্বজনীন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত এমন একটি আসরে উপস্থিত হতে পেরে, যেখানে বাংলাদেশের সব তারকারা, শিল্পীরা উপস্থিত আছেন। আমি ভ্রমণ করতে খুব ভালোবাসি। তারই ধারাবাহিকতায় এখানে এসেছি। আমি আমেরিকান নাগরিক, কিন্তু বলিউডে কাজ করছি। এখানেও এসেছি শান্তির দূত হয়ে। আমার কোন নিদৃষ্ট ঠিকানা নেই, ঠিক সংগীতের মতোই। তুরস্কে তাপস-মুন্নির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে একটি গানে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই। আজ বিশ্ব শান্তি দিবস। সংগীতের মাধ্যমে সবার মাঝে শান্তি ছড়িয়ে পড়ুক এ কামনা করি।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির হাতে সম্মাননা স্মারক তুলেন দেন এ অভিনেত্রী। তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ফারজানা মুন্নি।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বলরুম তখন যেন তারায় তারায় পরিপূর্ণ। দেশের সংগীত চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রাত আটটায় শুরু হওয়া এ কনসার্ট চলে রাত দু’টা অব্দি। অনুষ্ঠানে গানবাংলা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৌশিক হোসেন তাপস ও চেয়ারপার্সন ফারজানা মুন্নি তাদের নতুন প্রতিষ্ঠান টিএম ফিল্মস এর যাত্রা শুরুর ঘোষণা দেন। এ২০২০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত বড়পর্দায় চলচ্চিত্র প্রযোজনা করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংগীতের মতোই দেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে কাজ করবে টিএম ফিল্মস।