শ্রীলঙ্কায় ফেসবুকসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে শুরু হওয়া বিতর্কের জের ধরে একদল লোক শ্রীলঙ্কার চিলো শহরের একটি মসজিদে ও মুসলিমদের মালিকানাধীন দোকানপাটে পাথর নিক্ষেপ করে, এ সময় তারা স্থানীয় এক ব্যক্তিকেও পিটিয়ে আহত করেছে। ১২ মে রবিবার এই ঘটনা ঘটে।

১২ মে রবিবার পশ্চিম উপকূলের শহরটিতে এ ঘটনার পর চিলো পুলিশের আওতাধীন এলাকাজুড়ে পরদিন ১৩ মে সোমবার ভোর পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। পরে ফেসবুকসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর নিশ্চিত করেছে।

পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকেরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চিলোর পুলিশ এলাকায় একটি পুলিশ কারফিউ জারি করা হয়েছে যা আগামীকাল ভোর ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।’ পরে পুলিশ জানিয়েছে, ভোর ৪টায় কারফিউ তুলে নেওয়া হবে।

পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত্র সেই আব্দুল হামিদ মোহাম্মদ হাসমারকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। ‘এক দিন তোমরা কাঁদবে’- অনলাইনে তার এমন মন্তব্যকে সহিংসতার হুমকি হিসেবে দেখেছিল স্থানীয়রা।

শ্রীলঙ্কার সরকারি তথ্য বিভাগের মহাপরিচালক নালাকা কালুউয়িবা ১৩ মে সোমবার রয়টার্সকে বলেছেন, ‘দেশে শান্তি বজায় রাখার জন্য ফের সাময়িকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ রাখা হয়েছে।’

পুলিশের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মুসলিমদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগে ১২ মে রবিবার রাতে ও ১৩ মে সোমবারের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কর্তৃপক্ষ কুলিয়াপিটিয়া ও ডুম্মালাসুরিয়ার নিকটবর্তী এলাকাগুলো থেকে একটি দলকে গ্রেফতার করেছে।

সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সুমিথ আতাপাত্তু বলেন, ‘পরবর্তীতে ওই এলাকার লোকজন গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকে, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতের জন্য পুলিশ কারফিউ জারি করেছে।’

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/সিফাত