রাতে কারফিউয়ের মধ্যেই সেখানকার একটি মসজিদে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

২১ এপ্রিল রবিবার শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও এর আশপাশের চারটি হোটেল ও তিনটি গির্জাসহ মোট আটটি স্থানে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় পুরো দেশ জুড়ে আবারও কারফিউ জারি করেছে সরকার।

রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা দেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছিল। এদিকে রাতে কারফিউয়ের মধ্যেই সেখানকার একটি মসজিদে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

পুত্তালুম জেলার ওই মসজিদে হামলার পর পশ্চিমাঞ্চলের বান্দারাগামা এলাকায় মুসলিম মালিকানাধীন দুটি দোকান আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যদিও এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি, তবে শ্রীলঙ্কার মসুলিম সম্প্রদায় ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

এসব হামলার পর দেশটিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। বিশেষ করে মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্স বলছে, সন্ত্রাসী হামলার জেরে শ্রীলঙ্কায় নতুন করে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রবিবারের ভয়াবহ এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। এ ব্যাপারে সরকারও স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। হামলায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২৯০ জন নিহত ও ৫০০ জন আহতের খবর দিয়েছেন কলম্বো পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারা।

হামলার পরপরই দেশটির কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ২৪ জনকে আটক করেছে। হামলার ভয়াবহতায় শ্রীলঙ্কার মানুষ হতবিহ্বল হয়ে গেছে। দেশজুড়ে এখন শোকাবহ বিরাজ করছে।গুরুত্বপূর্ণ হোটেল ও স্থাপনার বাইরে সেনা সদস্যদের সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। এছাড়া রাজধানীতে ভারি অস্ত্রে সজ্জিত সেনা ও পুলিশি টহল দিচ্ছে।

এদিকে রবিবার রাতে রাতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যাদের আটক করা হয়েছে তারা সবাই স্থানীয়। তবে তাদের সঙ্গে বিদেশি কোনও সংযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ওই হামলার ব্যাপারে আগে থেকেই ‘তথ্য ছিল’ বলেও স্বীকার করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করা হয়নি সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত