অজগরের বাচ্চা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে আশ্রিত অজগরের ডিম থেকে বাচ্চা ফুঁটতে শুরু হয়েয়ে।

মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ডিম থেকে একে একে বাচ্চাগুলো পৃথিবীর আলো দেখা শুরু করেছে। এখনো বেশ কয়েকটি ডিম থেকে বাচ্ছা ফুঁটার অপেক্ষায় রয়েছে এবং কয়েকটি ডিমের ভিতর থেকে সাপের মাথা বের হয়ে আছে।

গত ৯ জুন শনিবার রাতে অজগরটি ৩২ টি ডিম পারে। ডিম পাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অজগরটি নিজেকে বৃত্তাকারে গুটিয়ে নিয়ে ডিম ঢেকে রেখে ‘তা’ দিতে শুরু করে। প্রায় ১ মাসের উপরে তা দেওয়ার পর বুধবার সকালে এই ডিমগুলো থেকে ছোট ছোট অজগরের বাচ্চা বের হতে শুরু করে।

বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সীমান্তের দিনারপুর পাহাড়ের একটি লেবুর বাগান থেকে ১৯৯৯ সালে একটি অজগর উদ্ধার হওয়ার পর এবার ৪র্থ দফায় ডিম পাদে। এর আগে ওই অজগরটি প্রথম ২০০২ সালের মে মাসে ৩২টি ডিম পেড়েছিল। ডিম পাড়ার ৫৯ দিন পর ২৮টি বাচ্চা ফুটেছিল। ২০০৪ সালের ১৩ মে ৩৮টি ডিম দেয়। সেবার ৬০ দিন পর বাচ্চা ফুটেছিল ৩২টি। সর্বশেষ ২০১১ সালের মে মাসে ৩০টি ডিম দেয়।

বুধবার সকাল ৯টায় বন্যপ্রাণী সেবা আশ্রমে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য ফুঁটানো বাচ্চাগুলোর নিরাপত্তায় সাপটি উদ্বিগ্ন হয়ে আছে। মানুষের উপস্থিতিতে তেড়ে আসে মা সাপটি। তবে ডিম পাড়ার পর থেকে কুন্ডলি পাকানো কারণে প্রকৃতপক্ষে কতটা ডিম ফুঁটেছে তা জানা যায়নি। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৯টি বাচ্ছা ফুটেছে। সেবা আশ্রমের পরিচালক সজল দেব বলেন আরো সময় লাগবে বিষয়টি জানতে।

ডিমগুলো দেখতে অনেকটা রাজহাঁসের ডিমের মতো। ডিম পাড়ার পর সেই ডিমগুলো রক্ষায় সতর্ক পাহারায় থাকে সাপটি। পরম যতেœ কু-লী পাকিয়ে ডিমগুলো ঢেকে রাখে।

তবে তিনি আশা করছেন আজ বৃহস্পতিবার সব ডিম থেকে বাচ্ছাগুলো বেড়িয়ে আসবে এবং তখন জানা যাবে আসলে কতটি ডিম পেড়েছে। এর আগে তিনি অনুমান করে বলেছেন প্রায় ৩২ টি ডিম হবে। তিনি আরো জানান, সব ডিমগুলোর বাচ্ছা ফাঁটার পর বন বিভাগের মতামত সাপেক্ষে লাউয়াছড়া বা সাতছড়ি বনে অবমুক্ত করা হবে। এবং আগের বাচ্ছাগুলোকেও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যোন অবমুক্ত করা হয়।

নাওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফারা ও বন্যপ্রাণী গবেষক আদনান আজাদ আসিফ এর মতে, এটি বার্মিজ পাইথন। এই অজগরের আকার ও বয়সের ওপর নির্ভর করে তার ডিমের সংখ্যা। বয়স ও আকার যত বাড়বে ডিমের সংখ্যাও বাড়বে। খাঁচায় বন্দি অবস্থায় অজগরের বাচ্চা ফুটলে একটু বেশি সতর্ক থাকতে হয়।

এই সাপের ১০৭টি পর্যন্ত ডিম দেয়ার রেকর্ড আছে। মার্চ থেকে জুন মাসে এরা ডিম দেয়। ডিম ফুটতে প্রায় ৬০ দিন সময় লাগে। আমাদের দেশে এই প্রজাতির সাপ চট্টগ্রাম বিভাগ, সিলেট বিভাগ ও সুন্দরবনে দেখা যায়। পাখি থেকে বড় হরিণ, ছাগল সবই তার খাদ্য তালিকায় আছে বলে তিনি জানান।

সৈয়দ ছায়েদ আহমদ/শ্রীমঙ্গল