একরকম হেসে-খেলে, ভাবগাম্ভীর্যতা পরিহার ও নানাবিধ অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দায়সারাভাবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) জাতীয় শোক দিবসের বিলম্বিত শোকযাত্রা ও শ্রদ্ধার্পণ পালিত হয়েছে। শোকযাত্রা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণকালে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহেরকেই হাস্যরত অবস্থায় দেখে গেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, ১৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় আজ ২২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শোকাযাত্রা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজন করা হয়। শোকযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অভিযোগ ওঠেছে, এসময় ধারণ করা বেশকিছু ছবি ও ভিডিওতে শোকাযাত্রার অগ্রভাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পাশে রেজিস্ট্রারসহ আরও কয়েকজনকে হাসতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে ‘কেউ হাসবা না’ বলতেও শোনা যায় এসময়।

শোকযাত্রা শেষে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের সময়কালে ধারণ করা বিভিন্ন ছবিতেও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবু তাহেরসহ কয়েকটি বিভাগের শিক্ষকদেরও হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। এতে অনেকেই বিব্রতবোধ করেন।

শুধু তাই নয়, গত ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নাম্বারে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ফুল দেওয়ার সময়ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবু তাহেরকে হাস্যরত অবস্থায় দেখা যায়। এসব ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। জাতীয় শোক দিবসের মতো বেদনাবহ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক পর্যায়ের একজন শিক্ষকের মুখে হাসি বেমানান ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন অনেকে।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো: আবু তাহেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শোক দিবস পালন আসলে মনের ভেতরগত বিষয়। দুএকটা ছবিতে কী আসলো সেটা ধর্তব্য না। পুষ্পাঞ্জলি অনুষ্ঠান চলাকালে কখন কে কিভাবে ছবি তুলেছে সেটা বলতে পারি না। কেউ অহেতুক সমালোচনা করলে করুক। সমালোচনা সহ্য করা অভ্যাস হয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ সমন্বয়কারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহম্মেদ জানান, ‘জাতীয় শোক দিবস নিঃসন্দেহে একটি ভাবগাম্ভীর্যের আবহ বহন করে। এদিনের কোনো অনুষ্ঠানে কেউ হাসাহাসি করবে সেটা কাম্য নয়। তিনি (অধ্যাপক আবু তাহের) বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্তাব্যক্তি হিসেবে তার সাথে এটা যায় না। তবে তিনি কোন অবস্থায় এটা করেছেন তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’