প্রতীকী ছবি

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গাবলা গ্রামে যৌতুকের লোভে সাথি খাতুন লিপা (২৩) নামে এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সাথির স্বামী বরকত মন্ডল উজ্জল। এ ঘটনায় শৈলকুপা থানায় ৪ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে। পুলিশ অভিযোন চালিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার এজাহার নামীয় আসামী হালিমা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে।

মামলার বাদী ও নিহতর মা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তালতলা হরিপুর গ্রামের সিদ্দিক বিশ্বাসের স্ত্রী জায়েদা খাতুন এজাহারে উল্লেখ করেন, ৫ বছর আগে শৈলকুপা উপজেলার গাবলা গ্রামের মুনছুর মন্ডলের ছেলে বরকত মন্ডল উজ্জলের সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মেয়েকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার সংসারীক মালামাল দেওয়া হয়।

সংসারিক জিনিসপত্র দেওয়ার পরও জামাই উজ্জল, তার মা হালিমা খাতুন, ভগ্নিপতি আরিফ ও বোন পলি খাতুন যৌতুকে জন্য সাথিকে বকাঝকা এমন কি মারপিট করতো। গত সোমবার আসামিরা ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য সাথি খাতুনকে বেদম মারপিট করে। বিকালে সাথি তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে এ খবর জানায়। এরপর থেকে সাথির ফোন বন্ধ হয়ে যায়। রাতেই আসামীরা সাথীকে হত্যার পর তার লাশ বাড়ির পাশে একটি কাঠাল গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরাথাল রিপোর্ট তৈরী করার সময় সাথির শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের দাগ দেখতে পায়। এরপর থেকে আসামীরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকালে শৈলকুপা থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, সাথিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। মরদেহের শরীরে অসংখ্য মারের ছাপ বা দাগ ছিল। তিনি বলেন, এজাহার নামীয় একজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।