শেখ রাসেল উদ্যান সংস্কার আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একেবারেই বিলুপ্তির পথে।ছবি সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৯৮৪ সালে নির্মিত হওয়া শ্রীমঙ্গলের একমাত্র শেখ রাসেল শিশু উদ্যানটির কোন উন্নয়ন নেই। বরং এটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। শ্রীমঙ্গলে শিশু উদ্যান নির্মাণের পর স্থানীয়দের মনে কিছুটা উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছিল। অথচ প্রথম থেকেই এখানে ছিল পর্যাপ্ত বিনোদন ব্যবস্থার অভাব। সরকারি সহযোগিতার অভাব, সংস্কার আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উদ্যানটি একেবারেই বিলুপ্তির পথে এসে দাঁড়িয়েছে। এখানে নেই চিত্ত বিনোদনের কোন ব্যবস্থা। নেই সরকারি কোন উদ্যোগ। নেই কোন স্থানীয় সরকারের ভূমিকা। জরাজীর্ণতায় পরিপূর্ণ এই শিশু উদ্যানটি যেন অভিভাবকহীন এতিম শিশুদের মতো অনাদর আর অবহেলায় পরে আছে দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে। ফলে উপজেলার শিশুরা তাদের মনের খোরাক মেটাতে পারছেনা। চিত্ত বিনোদন থেকে তারা রয়েছে বঞ্চিত ।

শেখ রাসেল উদ্যান সংস্কার আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উদ্যানটি একেবারেই বিলুপ্তির পথে।ছবি:সংগৃহীত

জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংলগ্ন প্রায় আড়াই একর জায়গা জুড়ে এখানে শিশু উদ্যানের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৮৪ সালে শিশু উদ্যানের বাউন্ডারি ঘিরে পাকা সীমানা প্রাচীর তৈরী করা হয়। এ সময় উদ্যানের ভেতরে শিশুদের বসার জন্য হাতেগুনা কয়েকটি পাকা বেঞ্চ তেরী করা হয়েছিল। এখানে ছিল একটি বড় পুকুর। সবুজে সমারোহে বিশাল মাঠ ছিল চারদিকে। অথচ বর্তমানে এসবের কিছুই নেই। বড় পুকুরটি ক্রমেই ছোট্ট ডুবায় পরিণত হয়ে এসেছে। গেইটে ঝুলানো রয়েছে বড় বড় তালা। সীমানা প্রাচীর ও বসার বেঞ্চগুলো ক্রমশ ভেঙ্গে যেতে বসেছে। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিস্কার পরিচ্ছনতার বড় অভাব দেখা দিয়েছে। ১৯৮৪ সালের পর থেকে এ উদ্যানটিতে আর কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। শিশুদের চিত্ত বিনোদনের জন্য উপজেলার একমাত্র শিশু উদ্যানটি।

উল্লেখ্য, উপজেলার সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিদের উদ্যোগে স্থানীয় সমাজসেবকদের সহযোগিতায় এখানে তৈরী করা হয়েছে একটি মুক্তমঞ্চ। এই মুক্তমঞ্চেই প্রতিবছর বৈশাখী অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়ে থাকে। অথচ দীর্ঘ ৩৪ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও শিশু উদ্যানটির যথাযথভাবে নির্মাণ ও চালু করার ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত সরকারি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহিদএমপির উদ্যোগে শিশু উদ্যানের জন্য একটি আধুনিক গেইট নির্মানের প্রস্তাব গৃহিত হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।শিশুদের প্রাণোচ্ছল ছুটোছুটিতে কবে এ উদ্যানটি ফিরে পাবে প্রা চাঞ্চল্য এই আশায় বর্তমানে রয়েছে উপজেলাবাসী।

আজকের পত্রিকা/মো:সাজন আহমেদ রানা,শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার/রাফাত/এমএইচএস