জীবনকে সুন্দর করতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। ছবি : সংগৃহীত

জীবনকে সুন্দর করতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের আশেপাশে অনেকে রয়েছেন যারা প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ক্যারিয়ার ভিত্তিক পড়াশোনার বাইরেও প্রচুর বই পড়ায় অভ্যস্ত। এক্ষেত্রে কেউ চেয়ারে বসে, ব্যালকোনিতে দেয়ালে হেলান দিয়ে, কিংবা খাটে শুয়ে বই পড়েন। কোন পজিশনে থেকে আপনি বই পড়ছেন তার উপর নির্ভর করে শরীরে নানা ধরণের প্রভাব পড়ে। যেমন শুয়ে বই পড়লে বেশ কিছু শারীরিক অসুবিধা আপনাকে মোকাবিলা করতে হতে পারে। চলুন জেনে নিই, শুয়ে বই পড়লে কী কী সমস্যা হতে পারে-

চোখ লাল হওয়া

অনেকে হয়তো ভাবেন শুয়ে থেকে রাতে না ঘুমিয়ে বই পড়ার কারণে চোখ লাল হয়। কিন্তু মেডিকেল সায়েন্স বলছে, অন্য কথা। তাদের কথায়, চোখের পেশিগুলোয় অত্যাধিক চাপ পড়ে বলেই চোখ এমন লাল হয়ে যায়। এটিও অ্যাস্থেনোপিয়া রোগেরই একটি বিশেষ লক্ষণ। এর ফলে চোখের অশ্রুগ্রন্থির পানি শুকিয়ে যেতে পারে। অশ্রুগ্রন্থির পানি চোখের মণিকে আর্দ্র রাখে যাতে বাইরের কোনো ব্যাকটেরিয়া সহজে চোখে প্রবেশ করে কোনো রকম ইনফেকশন না ঘটাতে পারে। কিন্তু চোখের পানি শুকিয়ে গেলে চোখের মণিতে বাইরের বাতাসে বায়ুর ধূলোর কণা সহজেই প্রবেশ করতে পারে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই ভালো নয়।

চোখে চাপ পড়ে

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবসময় পরামর্শ দেন বই থেকে চোখের দূরত্ব অন্তত যেন ১৫ ইঞ্চি হয়। শুধু তাই নয়, পড়ার জন্য চোখের সঙ্গে বইয়ের অ্যাঙ্গেল থাকতে হবে ৬০ ডিগ্রি। যারা বাইফোকাল চশমা পরে বই পড়েন তাদের ক্ষেত্রে ডাক্তাররা এর থেকে সামান্য কম কোণে পড়ার পরামর্শ দেন। শুয়ে বই পড়ার সময় বইয়ের দিকে যে কোণে তাকানো হয়, তাতে বইয়ের সঙ্গে ৬০ ডিগ্রি কোণ থাকে না। ফলে চোখের ওপর চাপ পড়ে। এতে কিছুক্ষণ পড়ার পরেই ক্লান্তি হয় শরীরে। চোখের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসার সম্ভাবনা থাকে। পাশ ফিরে শুয়ে যদি বইয়ের সঙ্গে দূরত্ব স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন, তারপরও সমস্যা থেকে যায়। এ ছাড়া পাশ ফিরলে একদিকের পেশির ওপর চাপ বেশি পড়ে। ফলে পেশিগুলো সহজে কাজ করতে পারে না। এমনকি এতে চোখের অংশে কমে যেতে পারে রক্তচলাচল।

মাথা ব্যথা

শুয়ে বই পড়লে চোখে তো চাপ পড়েই, একই সঙ্গে সেই চাপ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে মাথাতেও। বিভিন্ন নার্ভ আমাদের ব্রেনে গিয়ে ভিশনারি সেন্স তৈরি করে। তাই চোখের ওপর অস্বাভাবিক চাপ পড়লে নার্ভগুলো ঠিকমত কাজ করে না। উপরন্তু চোখের পেশির কাজে বাধা তৈরি হওয়ায় তা প্রভাব ফেলে মাথার পেশিতেও। এতে কমে যেতে পারে ঘুমের পরিমাণ।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/