শুরু হলো ঢাকা লিট ফেস্ট- ২০১৯। এবার লিট ফেস্টে ১৮টি দেশের প্রায় তিনশ লেখক-সাহিত্যিক-চিন্তাবিদের অংশগ্রহণ করছে। ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে লিট ফেস্টের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এবারের আয়োজনেও বিশ্বনন্দিত শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধুজীবীরা প্রায় শতাধিক অধিবেশনে অংশ নেবেন।

সকালে উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথের শিল্পসৃষ্টি ‘পঞ্চভূত’ নিয়ে নৃত্যনাট্য পরিবেশন করেন সাধনা নৃত্যগোষ্ঠী। এরপর কথা বলেন আয়োজনের পরিচালক ও অতিথিরা। লিট ফেস্ট নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, “নয় বছর আগে যে ‘হে উৎসব’ বিশ্বসাহিত্য থেকে বাংলাসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার আয়োজন ছিল, আজ ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ হিসেবে সেই উৎসবই বাংলা সাহিত্য দ্বারা বিশ্বসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করছে।”

ফেস্টের পরিচালক সাদাফ সায্ বলেন, ‘আজকের দিনে ঢাকা লিটারেচার ফেস্টিভাল সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মুক্তচিন্তা এবং বাক স্বাধীনতার জন্য। এ উৎসব আমাদের সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যে আরো পরিচিত করে তুলবে। প্রতিবছরের মতো এবারের আয়োজনেও বিশেষ করে দেশ ও বিদেশের সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, নারীর ক্ষমতায়ন ও বাকস্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।’

ফেস্টিভালের অন্যতম পরিচালক আহসান আকবর ও কাজী আনিস আহমেদ বলেন, ‘আমরা এই আয়োজনে একত্রিত হবার মধ্য দিয়ে নিজেদের চিন্তার জায়গাটাকে উন্মুক্ত করেছি। এই আয়োজনকে নির্দিষ্ট কোনোকিছুর উত্তর হিসেবে নয়, বরং আমাদের ভাবনা-চিন্তাকে স্বাধীন করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছি। আমরা আশা করি বিজ্ঞান, কবিতা, শিল্প-সাহিত্যের এই আয়োজনে আমরা বিশ্বের কাছে আমাদের দেশকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারবো।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘এ আয়োজন আমাদের হৃদয়ের সংযোগ, মস্তিস্কের সংযোগ, বিশ্বরেখায় পথযোগাযোগ। এ আয়জনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা থেকে উপাদান নিয়ে আমরা যেন আমাদের সাহিত্যে তা স্থাপন করতে পারি, সে মনরূপ আমাদের সৃষ্টি হোক।’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ‘হে ফেস্টিভ্যাল’ নামে যাত্রা শুরু হয় এ আয়োজনের। পরে ২০১৫ সাল থেকে এটি ঢাকা লিট ফেস্ট নামে আত্মপ্রকাশ করে। বিগত আট বছরে এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন নোবেল, ম্যান বুকার, পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিকরা।

এবারের উৎসবে অন্যতম আর্কষণ হিসেবে থাকছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘হাসিনা: আ ডটারস টেল’র বিশেষ প্রদর্শনী ও আলোচনা। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের আগাম আয়োজন হিসেবে থাকছে আলোচনা ও তাকে নিবেদিত কবিতা পাঠের আসর।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উৎসবের প্রথম দিনই দেওয়া হবে জেমকন সাহিত্য পুরস্কার।

আজকের পত্রিকা/সিফাত