হেমন্তের বাতাসে ঠান্ডা শীতল ভাব। অগ্রহায়ণের শেষ সপ্তাহেই যেন শীত নেমে গেছে সারা দেশে। ত্বকেও কিছুটা টান ধরেছে। তৈলাক্ত ত্বকও এই সময় শুষ্ক হয়ে যায়। তাই শীতের শুরু থেকেই ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিৎ। এ যত্ন নেওয়ার জন্য হাতের কাছেই রাখুন কয়েকটি টিপস-

শীতে গরম পানিতে গোসল করেন প্রায় সকলেই। কিন্তু এটা হয়তো অনেকেই জানেন না গরম পানি ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। তাই পানি গরম থাকা অবস্থায় মুখ কখনো ধোয়া উচিৎ নয়।

শীতে ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। তাই ত্বককে ময়শ্চারাইজ করা প্রয়োজন। অয়েল বেসড ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। এই সময় ত্বককে বারবার ময়শ্চারাইজ করলে, ত্বক মোলায়েম ও নরম থাকে।

শীতকালে মরা চামড়ার কারণে ত্বক নির্জীব হয়ে যায়। শুষ্ক ত্বকেই এই সমস্যা বেশি হয়। তাই সপ্তাহে একদিন এক্সফোলিয়েশন করা ভীষণই প্রয়োজন।

শুধু ত্বকের যত্ন নিলেই হবে না। ঠোঁটের কথাও মনে রাখতে হবে। শীত কালে শুষ্ক, ফাটা ঠোঁটের সমস্যায় সকলেই ভোগেন। তাই লিপ জেল বা লিপ গ্লস ব্যবহার করা দরকার। পেট্রোলিয়াম জেলিও ব্যবহার করা যেতে পারে।

অনেকেই ভাবেন শীতকাল, তাই সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করার দরকার নেই। কিন্তু ধারণাটা সম্পূণ ভুল। শীতকালে রোদের তাপ খুব বেশি থাকে। বাইরে বেরোলে রোদের তাপ শুষ্ক ত্বকে আরও বেশি প্রভাব ফেলে। তাই বাইরে বেরোলে অবশ্যই অন্তত এসপিএফ ১৫ যুক্ত সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। শুধু মুখে নয়, হাত বা শরীরের যে যে অংশ খোলা থাকবে সে সব অংশেও সানস্ক্রিন লোশান লাগিয়ে রাখুন।

এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান, কোল্ড ক্রিম,ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ও লোশন ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে চেহারার সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে, ত্বক থাকবে সজীব ও সতেজ। জেনে নিন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান সম্পর্কে-

মধু ও পাকা কলা

মধু ও পাকা কলা একসাথে ব্লেন্ড করে ঘন পেস্ট তৈরী করে মুখে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন এবং ময়েশ্চারাইজ লাগান। নিয়মিত এটি ব্যবহারে ত্বক আর্দ্রতা ফিরে পাবে, হয়ে উঠবে নরম ও কোমল। দুধের সর কিংবা অন্যান্য প্যাকের সাথেও মধু ব্যবহার করতে পারবেন।

শসা ও টমেটো

১ টেবিল চামচ শসার রস ও ১ চা চামচ টমেটোর রস একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত মুখে ব্যবহার করুন। এটি শুষ্ক ত্বককে মসৃণ ও সুন্দর করে তুলবে। শসা চাকা চাকা করে কেটে চোখের উপরে লাগিয়ে রাখুন, চোখের নিচে কালো দাগ দূর হবে এবং ডার্ক সার্কেল চলে যাবে।

অলিভ অয়েল

সাধারণত সব ধরণের ত্বকের জন্য অলিভ অয়েল খুবই উপকারী। গোসলের আগে মুখে ও শরীরে অলিভ অয়েল লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর গোসল করে ফেলুন। এছাড়া অলিভ অয়েল ও মধু মিশিয়ে হালকা মিশ্রণ তৈরী করে মুখে লাগান। এতে আপনার মুখের মৃত কোষ উঠে যাবে।

শীতে বিশেষ করে ছেলেদের ত্বক হয় বেশি রুক্ষ ও খসখসে। ফলে ত্বক ফেটে যায়। বাইরের ধুলাবালি আর ত্বক তৈলাক্ত হওয়ায় অনেকেরই মুখে ব্রণ উঠে। এই সব সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন এবং অয়েল কন্ট্রোল ফেসওয়াশ ব্যবহার করে ব্রণের সমস্যা দূর করতে পারেন।