শীতকালের শুরুটা উপভোগ্য হলেও প্রায় অধিকাংশ মানুষেরই এ সময় দেখা দিতে পারে কিছু বাড়তি স্বাস্থ্য সমস্যা। ফলে এ সময়টাতে প্রয়োজন কিছুটা বাড়তি সতর্কতা, তাতে মিলতে পারে স্বস্তি। চলুন, শীতের এ সময়ে করণীয় সম্পর্কে জেনে নিই-

হাত ধোয়া: শীতে অনেক বেশি ফ্লু, বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ছড়ায়। ফলে এ সময়টাতে হাত পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। তাই খাওয়ার আগে ও পরে ভালো করে হাত ধুতে হবে।

প্রতিষেধক টিকা: এ সময়টায় প্রতিষেধক টিকা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বাচ্চাদের। কারণ শীতে অনেক বেশি জীবাণু ছড়ায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

খাদ্য ও পুষ্টি: শীতের সময় বাজারে অনেক তাজা শাক-সবজি পাওয়া যায়। সেগুলো বেশি বেশি করে খেতে হবে। পাশাপাশি আমিষ জাতীয় খাবারও বেশি করে গ্রহণ করতে হবে।

ভিটামিন: এ সময়টায় ভিটামিন-সি অনেক বেশি কার্যকরী। ঠান্ডা, ফ্লু, কাশি ইত্যাদির পাশাপাশি এই ভিটামিন শরীরের ত্বকের জন্যও উপকারী।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: শীতে অনেকে গোসল করা থেকে বিরত থাকেন। এটা একদমই উচিত নয়। শরীর যতো বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে, জীবাণুর আক্রমণ থেকে ততো বেশি রেহাই পাওয়া যাবে।

পানি পান: অনেকে মনে করেন শীতে পানি কম পান করা উচিত, এটা ঠিক নয়। প্রতিদিন ন্যূনতম ৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে। ঠান্ডা পানি পান করার ক্ষেত্রে অসুবিধা মনে হলে গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

বিশ্রাম: শীতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া খুবই জরুরি। তবে তা ঘুমসহ ৮ ঘণ্টার বেশি মোটেও উচিত নয়। দীর্ঘ সময় ঘুমালে শরীরে জড়তা চলে আসে, যা ভালো ফল দেয় না।

ব্যয়াম: শীতে সবল ও কর্মক্ষম থাকা কঠিন। তাই এ সময় ব্যয়াম একটি জরুরি বিষয় হয়ে ওঠে। ফলে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ব্যয়াম করা উচিত। এক্ষেত্রে অন্তত ৩০ মিনিট হালকা বা ভারী ব্যয়াম করা যেতে পারে।

গরম কাপড়: গরম কাপড় পরিধানের পাশাপাশি সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ গায়ে পরা কাপড়ে অনেক বেশি ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। তাই গরম কাপড়, লেপ-তোশক, কম্বল ভালোভাবে ধুয়ে সেটা সূযের্র আলোতে যথাযথ শুকাতে হবে। অপরিষ্কার কাপড় এ সময় ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়।

ত্বকের আর্দ্রতা: এ সময়টায় ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে উন্নতমানের প্রসাধনী, অর্থাৎ লোশন, ক্রিম, জেল বা বাড়িতে তৈরি ভেষজ উপাদান শরীরে ব্যবহার করা যেতে পারে।

শীতে সুস্থ থাকতে ভারী পোশাক পরুন। একাধিক জামা খুব ভালো ইনসুলেটরের কাজ করে এবং বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস ভেতরে ঢুকতে দেয় না।

অনেকেই এমন ফ্ল্যাটে থাকেন, যেখানে থার্মোস্ট্যাট নিয়ন্ত্রণ করা তার হাতে থাকে না। সে ক্ষেত্রে তারা থার্মোস্ট্যাটের কাছে বেশ কিছু বরফের টুকরো রেখে দিন। বরফের ঠাণ্ডা হাওয়ায় থার্মোস্ট্যাট মনে করবে যে, ঘর যথেষ্ট ঠাণ্ডা আর নিজে থেকে শক্তি বাড়িয়ে ঘরে আরও গরম করে তুলবে।

ঘরের সব জানলায় মোটা কাপড়ের পর্দা লাগিয়ে নিন অবশ্যই। এ ছাড়া শীতের সময় বাইরের ঠাণ্ডা ঘরে ঢোকা থেকে আটকাতে উলের পর্দা লাগিয়ে ফেলুন।

রান্না ঘরটা অন্য ঘরের তুলনায় বেশি গরম থাকে। তার কারণ রান্না। আগুন জ্বেলে বা মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না, সে যেভাবেই রান্না করুন না কেন, সেই তাপ সারা রান্নাঘরটাকে বেশ গরম করে তোলে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত