সিগারেটের ছ্যাকা। প্রতীকী ছবি

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় সাত বছরের এক শিশু সিয়ামকে সিগারেটের ছ্যাকা দেওয়ার অভিযোগে গ্রাম্য শালিশের মাধ্যমে অভিযুক্ত যুবক মনিরকেও সিগারেটের ছ্যাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার(২ জুলাই) শ্রীনগর উপজেলার রাঢীখাল ইউনিয়নের কবুতরখোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মনির লৌহজং উপজেলার মেদেনীমন্ডল ইউনিয়িনের যশলদিয়া গ্রামের আমির ঢালীর ছেলে।

গ্রাম্য সালিশের বিচারে একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শালিশে কালাম মাদবরের নির্দেশে এক ব্যাক্তি একটি সিগারেট জ্বালিয়ে কালাম মাদবরের হাতে দেয়। সেটি কালাম মাদবর অন্য এক ব্যক্তিকে মনিরের পিঠে ছ্যাকা দিতে বলেন। এরপর সবার সামনেই মনিরের পিঠে ছ্যাকা দেয়।

মনিরের ভাই মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, আমার ভাই মনিরকে একটি শিশুকে সিগারেটের ছ্যাকা দেওয়ার অভিযোগে কালাম মেম্বারের নেতৃত্বে গ্রাম্য শালিসে অভিযুক্ত করে ২০টি বেতের বাড়ি, ৬টি সিগেরেটের ছ্যাকা, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও তিনদিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার শাস্তি দেওয়া হয়। তাকে কালাম মেম্বারের স’মিলে প্রকাশ্যে ২০টি বেতের বাড়ি দিয়ে, সিগারেটের আগুনে ছয়বার ছ্যাকা দেওয়া হয়। আমরা এই বিচার মেনে নিয়ে চলে আসলে পরবর্তীতে মামলা দিয়ে মনিরকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠায়।

তিনি আরো বলেন, যারা বিচার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো অবস্থা আমাদের নেই। তবে যেহেতু এই অভিযোগে মনিরকে একবার বিচার করেছে সেহেতু মনিরের বিরুদ্ধে যেই মামলাটি করেছে সেটি প্রত্যাহার করলে খুবই উপকৃত হতাম।

এই বিষয়ে কালাম মেম্বারকে ফোন দেওয়া হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(তদন্ত) জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, শালিশের ব্যাপারটি আমাদের জানা নেই। যদি তারা এরকম শালিশ করে বিচার করে থাকে এবং সিগারেটের আগুনের ছ্যাকা দেয়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার (৩ জুলাই) রাতে সিয়ামের মা রহিমা বেগম লৌহজং থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করে এবং মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর শুক্রবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে।

শিশু সিয়ামের মা রহিমা বেগম জানান, সিয়াম যশলদিয়া গ্রামের নূরবাগ ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। ঘটনার দিন সিয়াম বাড়ির আঙিনায় খেলা করছিল। কিছুক্ষণ পর সিয়ামের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মনির ও হান্নান আইসক্রিম কিনে দেবে বলে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল।

মঈন উদ্দিন সুমন/মুন্সীগঞ্জ