দণ্ডিত প্রধান শিক্ষক।

স্কুল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলামের সাথে কুষ্টিয়া শহরে আসেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষিকা। শহরের বড়বাজার এলাকায় আল আমিন আবাসিক হোটেলে মামা-ভাগনি পরিচয়ে আলাদা আলাদা কক্ষ ভাড়া নেন।

ভোরে শরিফুল ইসলাম সাবজেক্ট দেওয়ার নাম করে দরজা খুলতে বললে তিনি দরজা খুলে দেন। এ সময় শরিফুল ইসলাম তাকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানাতে হত্যার হুমকিও দেন লম্পট শিক্ষক শরিফুল। কিন্তু শিক্ষিকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে পালিয়ে যান।

ওই শিক্ষিকাকে ধর্ষণের দায়ে একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ধর্ষককে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।

২১ মে মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১৬ ধারা মোতাবেক আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক শরিফুল ইসলাম মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার ভবরপাড়া গ্রামের মৃত রহমান মোল্লার ছেলে। তিনি মুজিবনগর আম্রকানন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ওই নারী বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস