যে জাতির শিক্ষা ব্যবস্থা যত উন্নত, সে জাতি তত উন্নত। আমাদের দেশে চলছে শিক্ষা নিয়ে নানা পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে কোনো শিক্ষা ব্যবস্থাই এখনো চুড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। শিক্ষার্থীরা যে পরীক্ষার বিষয়বস্তু, তারা এখনো পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা যে আমাদের জন্য যুৎসই এবং কল্যাণকর তা এখনো ঠিক হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা খুবই হতাশ।কারণ যে শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীগণ যত ভাল ফলাফল করবে, তারা তাই গ্রহণ করবে এবং তাই হবে তাদের জন্য কল্যাণকর।

আমাদের দেশে প্রথম নিরীক্ষা চলছে কোন মাধ্যমে লেখাপড়া চলবে, তা নিয়ে। কেউ বলছে বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার। আবার ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাও এ দেশে চলছে। দেশে এ দুই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ভাল ফল করছে। অন্যদিকে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলা মাধ্যমে শিক্ষা দান করছে। ফলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এখানে ইংরেজিতে দূর্বল থেকে যাচ্ছে। এর ফলে দেখা যায় বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে ভাল করে না।

প্রতি বছর দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাশের হার খুবই কম। এর কারণ প্রায় শিক্ষার্থী ইংরেজিতে পাশ করতে পারে না। ফলে তারা পরীক্ষায় ফেল করছে। এ অবস্থার অবস্থান অবশ্যই করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে পারদর্শী হয়ে ওঠে। অবশ্যই ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদা দিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজির ওপর জোর দিতে হবে। আবার যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজিকে গ্রহণ করেছে। সেখানে বাংলার অবমাননা হচ্ছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা বাংলায় দূর্বল। তারা মাতৃভাষায় উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারছে না। এ ব্যবস্থার অবসান চাই।

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া বেশ কয়েক বছর ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পিএসসি অর্থাৎ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা নামে একটি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কী লাভ হচ্ছে এতে! ছোট ছোট বাচ্চাদের মাথায় এক বোঝা বই চাপিয়ে দিয়ে কর্তৃপক্ষ মহাখুশি। জিপিএ ৫ পেলেই তারা মনে করে মহাকাজ করেছে। অথচ শিক্ষার্থীরা কিছুই শিখেনি। তারা প্রকৃত শিক্ষা পায়নি। কর্তৃপক্ষ জিপিএ ৫ এর জন্য সারা বছর ধরেই কোচিং এর নামে অভিভাবকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। সেদিকে কর্তৃপক্ষের খেয়াল নেই। এতে লাভ হচ্ছে না কিছুই। কারণ ছেলেমেয়েরা অতিরিক্ত কিছুই শিখছে না। জিপিএ ৫ পাওয়ার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকমন্ডলী প্রশ্ন ফাঁসের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফলে প্রতি বছরই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর হুমকি ধামকিতে কাজ হচ্ছে না। এ ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হোক। ছেলেমেয়েদের বইয়ের বোঝা কমিয়ে দেওয়া হোক। শিক্ষার্থীরা যে বিদ্যালয় থেকেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা পায় এবং প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারে এর ব্যবস্থা করা হোক।

এদিকে জেএসসি নামে ৮ম শ্রেণিতে আরও একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানেও সেই একই বইয়ের বোঝা আছে। তাদের কোচিং এর নামে অভিভাবকদের গলার কাঁটার মতো অবস্থা। বিদ্যালয়ে ঠিকমতো না পড়িয়ে কোচিংয়ের নামে যে ক্লাস চলছে, তার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত মাসিক ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিতে হচ্ছে।এ যেন এক মহাবিপদ।

ভাল শিক্ষার জন্য চাই ভাল শিক্ষক। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। বিদ্যালয়গুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করতে হবে। এখানে প্রধান শিক্ষককে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। যে প্রধান শিক্ষক এটা করতে পারবেন না, তাকেই বিদায় নিতে হবে। এখানে ছাড় দিলে হবে না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।একইভাবে বইয়ের বোঝা কমিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের হাফ ছেড়ে বাঁচার পথ করে দিন।

লেখক: মো. এমদাদুল হক
সাবেক প্রধান শিক্ষক, ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর২, ঢাকা