রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আবাসিক শিক্ষার্থীর সিট জোর দখল করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৪জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় মাদারবখ্শ হলের ৪৫৫ নম্বর রুমের সিট দখল করে নেয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হলেন- মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মাদার বখ্শ্ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা’র কর্মী। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন-মো রাথিক ইসলাম।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাধারণ সম্পাদক। মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী। তারা উভয়ই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা ম্যামের সুপারিশ নিয়ে আবাসিকতার আবেদন করি। প্রাধ্যক্ষ স্যার আমাকে ৪৫৫ নম্বর রুমে বরাদ্দ দেন। গত মাসের ২৫ তারিখে হলে উঠেছি। তারপর থেকে ওই রুমে থাকছি। হঠাৎ গত বুধবার রাথিক, কামরুলসহ কয়েকজন এসে আমার সিটে আরেকজনকে জোর করে তুলে দিয়ে যায়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাইকে জানানো হলে সে দিনের মত তারা চলে যায়। কিন্তু তারপরেও আমার রুমে অন্য এক শিক্ষার্থীর বেড রেখে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘গত শুক্রবার রাতে ছেলেটি এসে আমার রুম থেকে বেড নিয়ে যায়। পরে রাথিক, কামরুল এসে দর্শন বিভাগের বাবু নামের আরেক ছেলেকে আমার সিটে উঠিয়ে দিয়ে গেছে।’

ওই সিটে উঠিয়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাবু বলেন, ‘এটা রাথিক ভাইয়ের সিট। রাথিক ও কামরুল ভাই গতকাল রাতে আমাকে ওই সিটে উঠিয়ে দিয়েছে।’এটা অন্যজনের সিট সেটা আপনি জানেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যা আমি জানতাম। রাথিক ও কামরুল ভাই বলার কারণে উঠেছি।’ তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে রাথিক বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। রাজশাহীর বাহিরে আছি। এখনও কিছু বলতে পারবো না।’

অভিযুক্ত আরেক ছাত্রলীগ কর্মী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ আমি কাউকে অন্য কারো সিটে উঠিয়ে দেয়নি। আমার পরিক্ষা আছে এ বিষয়ে কিছু জানি না।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমাকে এ বিষয়ে জানানো হলে আমি তাদেরকে হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলি। তারপরে কি হয়েছে সেটা জানি না।

ওই সিটে আবার অন্য ছেলেকে উঠিয়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি। পরবর্তীতে তিনি ফোন করে বলেন, আমরা কর্মীরা ওই সিট আগেই বেড রেখে এসেছিল। পরে আমাদের ওই সিটে শফিককে তার রুমমেট উঠিয়ে দিয়েছে। আমি বিষয়টা সমাধান করে দিচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মাদার বখশ্ আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমি বিষয়টা জানি। যারা সিট দখল করে নিয়েছিল তারা ওই সিট ছেড়ে দিবে বলে আমাকে জানিয়েছে।’

এমএ জাহাঙ্গীর/রাবি