এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবরই শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচিত। তিনি এবার দরিদ্র পরিবারের মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা হবিগঞ্জের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি উন্নয়নমূলক কাজ করে প্রশংশিত হয়েছেন।

জেলার  অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উন্নয়নমুলক অনেক কাজে এগিয়ে এসেছেন।

এবার তিনি দুই ছাত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা দিয়েছেন ।

মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর একজন বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামের টিনের দোকানের কর্মচারী সুশান্ত দাশের মেয়ে নিশিতা দাশ। তিনি চান্স পেয়েও অর্থের অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছিলেন না।

আর অন্যজন চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ গ্রামের ফেরিওয়ালা আব্দুস শহীদের মেয়ে কুলসুমা আক্তার। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ বিভাগে চান্স পেলেও অর্থের অভাবে তার ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।

জানা গেছে, সব প্রতিকূলতাকে জয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৪০০তম স্থান অর্জন করে উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান নিশিতা দাশ। কিন্তু ভর্তির জন্য এককালীন এত টাকা দেয়া দিনমজুর বাবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। খবর পেয়ে নিশিতার পাশে দাঁড়ান হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ উল্ল্যা।

একইভাবে চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ গ্রামের ফেরিওয়ালা আবদুস শহীদের মেয়ে কুলসুমা আক্তার সুযোগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিবিএ ইউনিটে ৮৪তম স্থান অর্জন করেন তিনি। ভর্তির টাকার জন্য হতাশ হয়ে পড়েন কুলসুমা। তার জন্যও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

মঙ্গলবার বিকালে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিশিতা দাশ ও কুলসুমাকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা। একই সঙ্গে তাদের মিষ্টিমুখ করান তিনি।

এ টাকা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান দুই ছাত্রী। ভবিষ্যতে তাদের সহায়তা ও পাশে থাকার ঘোষণাও দেন পুলিশ সুপার।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, আমি সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজে এগিয়ে আসার চেষ্টা করি। তবে সবাই যদি এমন অদম্য মেধাবীদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে তারা একদিন প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। দুই দরিদ্র মেধাবী ছাত্রীর পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি