শাহ আরেফীন টিলা। প্রতীকী ছবি।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে শাহ আরফিন টিলায় আবারও শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। ২১ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শাহ আরফিন টিলায় চিকাডর নারায়ণপুর গ্রামের মৃত মনফর আলীর ছেলে আইয়ুব আলী, সোহরাব আলী, আইয়ুব আলীর ছেলে আলী নুর, ইব্রাহীম আলী ও ঈসমাইল আলীর যৌথ মালিকানাধীন গর্তে পাথর তুলতে গিয়ে গর্ত ধসে আবু সাঈদ (৩৫) নামের এক শ্রমিক নিহত হন।

তিনি কোম্পানীগঞ্জের ছনবাড়ি গ্রামের ধন মিয়ার ছেলে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার রতনপুর (বাগানবাড়ি) গ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে ফখর উদ্দিন (৩২) ও জগন্নাথপুর উপজেলার তেলিকোণা গ্রামের নুরুল হকের ছেলে ইমাম হোসেন (২৫)।

অধিক পারিশ্রমিকের চুক্তিতে পাথর শ্রমিকরা দীর্ঘদিন যাবৎ শাহ আরফিন টিলার অন্যতম নিয়ন্ত্রক আইয়ুব আলী গংদের অবৈধভাবে গর্ত করা পাথর গর্তে পাথর উত্তোলনের কাজ করে আসছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাথরখেকো আইয়ুব আলী ও তার ভাই সোহরাব, আইয়ুব আলীর ছেলে আলী নুর, ইব্রাহীম আলী ও ঈসমাইল আলীর যৌথ মালিকানাধীন পাথর গতে পাথর উত্তোলন করার সময় গর্তের পাড় ধসে পাথরের নিচে পড়ে আবু সাঈদ নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ফখর উদ্দিন ও ইমাম হোসেন নামের দুই শ্রমিক।

খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল করে সিলেট ওসমানী হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই খায়রুল বাশার।

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, পুলিশ শাহ আরফিন টিলা থেকে আবু সাঈদ নামের এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। পাথর উত্তোলনের সময় গর্তের পাড় ধসে নিচে পড়ে তিনি মারা যান। যাদের গর্তে শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এলাকাবাসী ক্ষোভের সাথে জানান, এর আগেও পাথরখেকো ও শাহ আরফিন টিলার অন্যতম নিয়ন্ত্রক আইয়ুব আলী গংদের বিরুদ্ধে শ্রমিক নিহতের ঘটনা ও পরিবেশ ধ্বংসের মাধ্যমে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের দায়ে একাধিক মামলা হয়েছে। তারপরও থেমে নেই আইয়ুব আলী গংদের শাহ আরফিন টিলায় অবৈধভাবে গর্ত করে পাথর লুটপাট ও শ্রমিকদের জীবন নিয়ে হলি খেলা।

আজকের পত্রিকা/জেবি