পাথরঘাটা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আনোয়ার উল্লাহ।

বরগুনার পাথরঘাটায় এক রোগীর ছেলেকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত সেই ডাক্তারকে শাস্তিস্বরুপ সাময়িক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জাতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সপ্তাহ পালনে নয়-ছয় ঘটনায় ৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে বরগুনার সিভিল সার্জন।

গত ১৩ মে সোমবার এক মুমূর্ষ রোগীসহ তার ছেলেকে ব্যাপকভাবে মারধর করেন পাথরঘাটা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আনোয়ার উল্লাহ।

মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয় এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের টনক নড়ে।

যার ফলে ১৫ মে বুধবার দুপুরে বরগুনার সিভিল সার্জন ডাঃ মো. হুমায়ুন শাহিন খান পাথরঘাটা হাসপাতাল সরেজমিনে পরিদর্শণ করেন।

এসময় নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাবির হোসেন সহ ঘটনার বিচার প্রার্থী রোগী ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত সিভিল সার্জনের সামনে ডাঃ আনোয়ার উল্লাহ’র ব্যাপক দূর্নীতির বর্ণনা দিয়ে তাকে প্রত্যাহারসহ তার বিচারের দাবিজানিয়ে শ্লো-গান দেন উপস্থিত শতাধিক ব্যক্তি।

একপর্যায় বরগুনার সিভিল সার্জণ ডাঃ মো. হুমায়ুন শাহিন খান আনোয়ার উল্লাহকে পাথরঘাটা ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দিলে আনোয়ার উল্লাহ একদিন সময় দাবি করে বলেন, ১৬ মে বৃহস্পতিবার সে চলে যাবে। আনোয়ার উল্লাহ’র এ দাবি উপস্থিত উত্তেজিত জনতা মানতে না-চাইলেও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির এর অনুরোধ আনোয়ার উল্লাহকে একদিন সময় দেওয়া হয়।

এ ব্যপারে বরগুনার সিভিল সার্জন দি গণমাধ্যমকে বলেন, রোগীর স্বজনকে মারধার করার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়া ও স্থানীয় অভিযোগ শুনেছি। বামনা, বেতাগী ও আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে ৩ সদস্য একটি তদন্ত টিম করা হয়েছে তারা তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিবেন। একই তদন্ত কমিটি বিগত মাসে পাথরঘাটায় জাতীয় স্বাস্থ্য ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপনে নয়-ছয় ঘটনার ও তদন্ত করবেন।

উল্লেখ্য যে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মাকে নিয়ে হাসপাতালে এসে বেডে তোলা নিয়ে চিকিৎসকের মারধরের শিকার হয়েছিলো সেই কিশোর।

কিশোরকে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে অনেকেই ডাক্তারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে ওই ডাক্তারের বিচার চেয়েছেন স্থানীয়রা।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস