চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও শাজাহান খান

সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিথ্যা বিভ্রান্তিমুলক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

তিনি বলেছেন, আমরা ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিচ্ছি তাঁকে (শাজাহান খান) এ সময়ের মধ্যে এ তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। নতুবা আমরা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো।

(৮ ডিসেম্বর) রোববার নিসচার কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। সন্ধ্যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই বিবৃতি দেন নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আলম মিলন।

বিবৃতিতে নিসচার যুগ্ন মহাসচিব লিটন এরশাদ এর বরাত দিয়ে জানানো বলা হয়েছে, নিরাপদ সড়ক চাই’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরুদ্ধে শাজাহান খানের মিথ্যাচারে আমরা বিস্মিত, হতবাক এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা মনে করি শাজাহান খান নিরাপদ সড়ক চাই’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সম্পর্কে জঘন্যতম একটি মিথ্যাচার করেছেন।ইলিয়াস কাঞ্চন কোথা থেকে কত টাকা পান, কি উদ্দেশ্যে পান, সেখান থেকে কত টাকা নিজে নেন, পুত্রের নামে নেন, পুত্রবধূর নামে নেন সেই হিসেবটা আমি জনসম্মুখে তুলে ধরবো।

আমরা মনে করি সমাজের একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, জাতীয় পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সম্মানিত মানুষের বিরুদ্ধে শাহজাহান খানের এমন মিথ্যাচার শুধুমাত্র নিজের দুর্বলতা ঢাকার জন্যই বলছেন। তিনি এই মানহানীকর কথা বলেছেন জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য।

একটি কথা না বললেই নয়, প্রধানমন্ত্রী যখন সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যুগপোযুগী সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়নে নির্দেশ দিলেন তখন কি করে শাহজাহান খান সরকারে থেকে এই আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন সেই প্রশ্ন জাতির কাছে রাখছি।

আমরা মনে করি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮কে বাধাগ্রস্ত করতে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে শাহজাহান অবান্তর এসব প্রশ্নের অবতারণা করছেন। আমরা বিশ্বাস করি এদেশের মানুষ এসবের যোগ্য জবাব দিবে।

সেইসাথে উল্টো প্রশ্ন রাখছি পরিবহন সেক্টরে বছরে বিভিন্ন খাতের নামে যে টাকা উত্তোলন (চাঁদা আদায়) করা হয় সেই টাকার কত অংশ শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়েছে, কয়টা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে শ্রমিকদের দক্ষ করার জন্য, কয়টি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য, কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য, কয়টি আবাসন পল্লী গড়ে তোলা হয়েছে শ্রমিকদের আবাসনের জন্য, তাদের জীবনমান উন্নয়নে এই টাকার কত অংশ ব্যয় করা হয়?